ওসমানী মেডিকেলের ১৬ জন(শিক্ষানবিশ) চিকিৎসকের মধ্যে ১৫ জন ই করোনা নেগেটিভ।
এম আব্দুল করিম, সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃঃ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এ আক্রান্ত হওয়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ জন শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকের মধ্যে, ১৫ জনের রিপোর্টই এবার নেগেটিভ এসেছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শনাক্ত হওয়া অপর ইন্টার্ন চিকিৎসক শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ৪ মে এই ১৬ জন চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যায় এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল এ তা ভাইরালও হয়। কিন্তু ওসমানী মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করেন নি। তবে তার আগে ২৩ এপ্রিল থেকেই তারা কলেজের ইন্টার্ন হোস্টেলে কোয়ারেন্টিন ছিলেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ গাজীপুর থেকে আসা এই হাসপাতালের এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেট আসা ৭৮ জন ইন্টার্ন চিকিৎসককে হোস্টেলে কোয়ারেন্টিনে রেখে তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে ঢাকার ল্যাবে পরীক্ষায় ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যা ৪ মে জানা যায়। শনাক্ত হওয়া ঐ ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন নারী। কিন্ত আক্রান্তদের শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় তাদের কলেজ হোস্টেলেই আইসোলেশনে রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ফের তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়।
এরমধ্যে একজনের শারিরীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় হাসপাতালে ভর্তি একজন ছাড়া বাকী ১৫ জনের রিপোর্ট ই আসে করোনা নেগেটিভ।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ হিমাংশু লাল রায় বলেন, আরেকবার তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। পরপর দু'বার নমুনা পরীক্ষায় রেজাল্ট নেগেটিভ আসলে আমরা একজন রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করি।
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈনউদ্দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং তিনিই সিলেটের প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়া রোগী। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার কুর্মিটুলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
