নিখোঁজের ৪০ দিন পরও উদ্ধার হয়নি সুমি,দিশেহারা পরিবার।
এম আব্দুল করিমঃ
মহামারী করোনা ভাইরাস আতংকে আতংকিত যখন পুরো পৃথিবী, ঠিক তখনি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের সুতারখালি গ্রামে।
সরেজমিনে জানা যায় যে, গত ১২/০৪/২০২০ ইং রাত অনুঃ ১০.৩০ মিনিটের সময় সুতারখালি গ্রামের মনির মিয়া (৫৫) প্রতি দিনের মত তাহার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন অর্থাৎ ১৩/০৪/২০২০ ইং ভোর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে তিনি দেখেন তার মেয়ে সুমি বেগম ঘরে নেই। চারপাশে এবং আত্নীয় সজনের বাড়ি অনেক খোঁজা খোঁজির পরও মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজ সুমির পিতা মনির মিয়া বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরি নং ৮৫৬।
এ ব্যাপারে নিখোঁজ সুমির পিতা বলেন যে, আমার মেয়ে সুমি বেগম কে আজ থেকে তিন বছর আগে বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের লন্ডন প্রবাসী মোঃ উস্তার আলীর সাথে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী বিবাহ দেই।বিয়ের কয়েকমাস পরে আমার মেয়ের স্বামী উস্তার আলী ইংল্যান্ড চলে যায় এবং মেয়ে আমার বাড়িতে আমাদের সাথে বসবাস করতে থাকে। ঘটনার দিন রাতে আমরা পরিবারের সকল ঘুমিয়ে গিয়েছিল, ভোর রাতে যখন আমি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে উঠি তখন দেখি সুমি ঘরে নেই বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
একপর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন যে,আমাদের গ্রামেরই মোঃ গিলমান নামের একটি ছেলে আমার ছেলের সাথে প্রায়ই আমাদের বাড়িতে আসত এবং আমার মেয়ে সুমির সাথেও মাঝে মধ্যে কথা বলত। সে ই আমার বিবাহিত মেয়েকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই।
এদিকে নিখোঁজ সুমির মা কান্নাকাটি করে বলেন আমার মেয়ে সুমি আরেকজনের স্ত্রী, তার (সুমির)স্বামী বার বার আমাদের চাপ দিচ্ছে তার স্ত্রী কে ফেরত পাওয়ার জন্য, এখন আমরা কী করব।থানায় মামলা করেছি কিন্তু পুলিশ অনেক চেষ্ঠা করেও কোন কিছু করতে পারছে না।
নিখোঁজ হওয়ার সময় তাহার পরনে ছিল সেলোয়ার-কামিজ । সুমির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা,উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি।যদি কোন সুহৃদয় ব্যক্তি তাহার সন্ধান দিতে পারেন তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
সুমিকে খোজে বের করতে তিনি পুলিশ এবং সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেন।
