মাথা গোজার ঠাইটুকু কেড়ে নিল দুরন্ত ঝড়, দুই সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নীচে অসহায় মা।

 প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়


স্টাফ রিপের্টারঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আস্মিক ঘূর্ণীঝড় একটি বসতঘর গাছে তুলে দিয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে ঘরটি দুমড়ে মুচড়ে একাকার হয়েছে। ঘর চাপা পড়ে বিধবা শিখারানী(৫২) ও তার ছেলে বিশ্বজিত বিশ্বাস(২৩) ও নয়ন বিশ্বাস(১৫) আহত হয়েছেন। শিখা রানীর সম্পত্তি বলতে আছে .৬ শকত জমি। ওই জমিতেই ছিল মাথা গোজার ঠাই, টিন-কাঠের একখানা ঘর। বুধবার রাত ৯ টার দিকে ডুমুরিয়া গ্রামের এই শিখা রানীর ঘরখানা তছনছ হয়ে যায় ঝড়ের আঘাতে। আংশিক উড়ে বেধে যায় গাছের ডগায়। 


শিখা রানীর বড় ছেলে বিশ্বজিত খুলনা বিএল কলেজে উচ্চতর গনিত নিয়ে এমএসসি পড়ছেন। ছোট ছেলে নয়ন বিশ্বাস স্থানীয় হাজী রাজা উল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণির ছাত্র। ঘরে থাকা দু-চার দিনের চাল, দুই ভাইয়ের বইপত্র সবই মাটিতে মিশে গেছে ঝড়ে।  


শিখা রানী বলেন, ‘সন্তানদের ঠিক রাখতে আমি লুকিয়ে কাঁদি। ঘরে খাবার নেই। কোন আয় নেই। বড় ছেলে প্রাইভেট পড়াতো তাও বন্ধ। ছোট ছেলেকে মেয়ের বাড়ি পাঠিয়েছি। প্রতিবেশীরা আমাদেরকে ডেকে খাওয়ায়। রাস্তায় কাজ করে ও ছেলের প্রাইভেটের টাকা জমিয়ে ঘর তুলেছিলাম। ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে  সে ঘর এখন বোঁঝায় পরিনত হয়েছে’। 


হত দরিদ্র শিখা রানী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের(আরএমপি) একজন সড়ক শ্রমিক। বড় ছেলেকে নিয়ে এখন তিনি আছেন প্রতিবেশী নগেন পাইক এর আশ্রয়ে। বড় ছেলে এমএসসির ছাত্র বিশ্বজিত বলেন, প্রাইভেট পড়িয়ে কিছু আয় হতো। করোনার কারনে এখন তাও বন্ধ। এলাকায় দিনমজুরী করার ও কোন কাজ পাচ্ছিনা। 


ঝড়ে বিধ্বস্ত হতদরিদ্র এ পরিবারটি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, শিখা রানীর দুর্দশার কথা কেউ জানায়নি। এখন জানলাম। দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় এর আরও খবর: