ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির ব্যাপারে কথা কাটাকাটি'র একপর্যায়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি।

 প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০, ০২:১০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়


এম আব্দুল করিম সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃ


অদৃশ্য করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)'র আতংকে আতংকিত যখন পুরো পৃথিবী,বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে অদৃশ্য এ ভাইরাস ঠেকাতে, প্রতিদিন একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে করোনা'র করুন থাবায়। বাংলাদেশ ও এর ব্যতিক্রম নয়। মুলত গত ২৬ শে মার্চ থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং বলতে গেলে পুরো বাংলাদেশ লকডাউনের আওতাভুক্ত। এমনি পরিস্থিতিতে দেশের অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছেন আর গৃহবন্দী ও দিনমজুর মানুষের ঘরে ঘরে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান শ্রেণীর অনেক মানুষ সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন। সরকারের বিভিন্ন দফতরের তথ্যানুযায়ী দেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষের মধ্যে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত হলেও সত্যি যে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ১ নং লামাকাজি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধী, অন্ধসহ প্রায়  শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর এ অভিযোগ উঠেছে লামাকাজি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্তিত  বর্তমান মেম্বার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ত্রাসসৃষ্টির মত অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন এবং তার নিজস্ব বাহিনীর বিরুদ্ধে। 


সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় যে, গত ২৫ মে ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাতের পরই লামাকাজি ইউপির ১ নং ওয়ার্ডের মাহতাবপুর জামেমসজিদের সামনেই ঘটে হৃদয় বিদারক মারামারির  ঘটনা। সরকারি  ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুমুল সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়  মসজিদের সামনেই। 


জানা যায় যে, ঈদের নামাজ শেষে মাহতাব পুর গ্রামের বসির মিয়া ও আকলুছ মিয়ার সাথে অভিযুক্ত লামাকাজি ইউপি'র ১ নং ওয়ার্ডের ২ বারের নির্বাচিত সদস্য একই গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের সাথে আলাপ হচ্ছিল,হঠাৎ একপর্যায়ে মেম্বার হেলাল উদ্দিন এবং তার আশপাশে থাকা নিজের লোকজন বসির মিয়া ও আকলুছ মিয়ার উপর হামলা চালায় এবং তাদের এই অতর্কিত হামলা থেকে বসির মিয়া ও আকলুছ মিয়াকে বাঁচানোর জন্যে তার ভাই ও অন্যান্ন লোকজন এগিয়ে আসলে তাদেরও আক্রমন করে মেম্বার সমর্থকেরা। মুলত আগে থেকেই উৎপেতে থাকা হেলাল মেম্বারের লোকজন লোহার রোড,পাইপ ও বাঁশের লাঠিসোটাসহ আচমকা আক্রমন চালায়। তাদের এ আক্রমণে আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে যারা চিকিৎসা নেন তারা হলেন বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মাহতাব পুর গ্রামের বাসিন্দা  মোঃ আকলুছ মিয়া,তার ছেলে শরিয়ত উল্লাহ, ফিরোজ আলী,এনাম,খালেদ, আশরাফ, সবুজ, জৈন উদ্দিন, তাজির আলী, আলী নুর,রূপা মিয়া,হাফিজুর, নাজির আলম,রুমেন,আলামীন, জাকির আলম,শাদিয়ান, ও সোনা মজিদ।আহত প্রত্যেকের পুলিশ কেইস লেখা সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রও রয়েছে। 


মাহতাব পুর গ্রামের বসির মিয়া এ প্রতিবেদকের কাছে আরো জানান যে, উল্লেখিত বিএনপি সমর্থিত হেলাল মেম্বার একজন চাঁদাবাজ,দখলদার,পরধন লোভী ও সন্ত্রাসীপ্রকৃতির লোক। তার এ হেন অপকর্মের যথেষ্ট প্রমাণও আছে এবং বিভিন্ন সময়ে তার সন্ত্রাসীকর্মের খবর দৈনিক পত্রিকায়ও  প্রকাশিত হয়েছে। সে আমার কাছেও চাঁদা দাবি করেছিল এবং তার অপকর্মের প্রতিবাদ একমাত্র আমিই করতাম। 


এছাড়াও লামাকাজি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মাহতাব পুর গ্রামের সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত গরীব ও অসহায় দিনমজুর অসংখ্য মানুষ এ প্রতিবেদকের কাছে জানান যে, হেলাল মেম্বার শুধু নিজের আত্মীয় স্বজন এবং তার  ভোটারদের দেখে দেখে  সরকারি ত্রাণ দেন।আমরা কখনও তার কাছ থেকে কোন সরকারি ত্রাণ পাইনি। আপনি চাইলে আমাদের নাম লিখে নিতে পারেন এবং দয়া করে আপনারা যারা সাংবাদিক আছেন, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের এ দাবি তোলে ধরবেন। সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিতরা হলেন, মাহতাব পুর গ্রামের ছালিমা বিবি,সিরাজুন নেছা, আনোয়ার হোসেন, জামিল আহমদ, এখলাছুর রহমান, মহিরুন নেছা,আজমান আলী(প্রতিবন্ধি), আলী নুর,আফরোজ আলী, আহমদ হোসেন, নুর হোসেন, আবুল কালাম, রুশন আলী, আফতর আলী(অন্ধ প্রতিবন্ধী),  ময়না বিবি, জাহাঙ্গীর আলম ( প্রতিবন্ধী),  আফজাল( প্রতিবন্ধী),  সোনা মজিদ, ছালেখা বেগম,কবির উদ্দিন, ছালিম উদ্দিন, আং কাইয়ুম, মিশাদ,মংলা মিয়া,তাজির আলী, কাবিল, আং হাশিম, মছব্বির আলী, আং ছালামসহ আরো অনেক গরীব ও অসহায় দিনমজুর মানুষ সরকারের দেয়া ত্রাণ থেকে   বঞ্চিত হয়েছেন। 


এ ব্যপারে অভিযুক্ত ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার  হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে  কল দিয়ে জানতে চাইলে, তাহার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরে সাবেক মেম্বার গিয়াস উদ্দিনের নং কল করলে তিনি হেলাল মেম্বারের পক্ষে বলেন যে সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে,যারা ত্রাণ পায়নি, তাদের লিস্ট দিলে বিষয়টি দেখা যাবে এবং ঈদের দিনের মারামারির ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।

জাতীয় এর আরও খবর: