রাতভর তরুণীকে নিয়ে চার যুবকের ফুর্তি, অতঃপর কুয়ায় নিক্ষেপ।
এম আব্দুল করিম সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাস আতংকে যখন আতঙ্কিত মানুষ। মসজিদ ও মন্দিরে যেখানে মানুষ প্রার্থনায় ব্যস্ত,ঠিক তখনই একটি বর্বর ঘটনা ঘটে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। করোনাকালে ও থেমে নেই নারীকে নিয়ে ফুর্তির আসর। ফুর্তিশেষে হত্যার উদ্যেশে কুয়ায় নিক্ষেপ করা হয় নারীকে। এই ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ১ জনকে আটক করেছে, তবে পালিয়ে গেছে বাকি ২ জন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় যে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার একাধিক মামলার আসামী ও মাদকবিক্রেতা কদমখাল গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন(৩০), চাঙ্গীল গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে শাহীন আহমদ(২৮) এবং মুক্তাপুর টিলাবাড়ী গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে বশির মিয়া(২৯) সিলেট নগরী থেকে এক তরুণীকে নিয়ে আসে।
পরে ওই নারীকে জৈন্তাপুর উপজেলার মুক্তাপুর টিলাবাড়ী গ্রামের বশির মিয়ার দোকান কোঠা সংলগ্ন পরিত্যক্ত ঘরে রেখে মধুচক্রে মেতে উঠে তারা।
একপর্যায়ে মধুচক্র শেষে রাত প্রায় ৩টার দিকে ঐ তরুণী কে হত্যার উদ্যেশ্যে দোকানকোঠার পাশেই একটি কুয়ায় নিক্ষেপ করে চলে যায় ঐ তিন নরপশু।
প্রাণরক্ষার্থে ঐ নারী চিৎকার করেন এবং তার চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে অপরিচিত একনারীকে কুয়ার মধ্যে দেখতে। বিষয়টি দেখে এলাকাবাসী জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার এস.আই কাজী শাহেদ এ.এস.আই রায়হান পারভেজ ফোর্স নিয়ে ওই নারীকে কুয়া হতে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া নারী জানান উল্লেখিত তিনজন সিলেট থেকে তাকে নিয়ে আসে । পরে তাকে টাকা পয়সা না দিয়ে হত্যার উদ্যেশে কুয়ায় ফেলে চলে যায়।
এসময় পুলিশ জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে বশির মিয়া(২৯) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
পরে ঐ নারী জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে নারী ও নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেব রেকর্ড করা হয় (নং-০২, তারিখ: ০৫-০৬-২০২০খ্রিঃ।)
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল বনিক নারী উদ্ধারের বিষয় স্বীকার করে বলেন, নির্যাতিত নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত যুবককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
