রায়পুর খাশেরহাট টু হাজিমারা সড়কে যাত্রীদের তীব্র ভোগান্তি।

 প্রকাশ: ০৪ অগাস্ট ২০২০, ১০:২০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


শরিফ হাসান,লক্ষীপুর প্রতিনিধি ঃ

রায়পুরে খাশেরহাট-হাজিমারা প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের পিচ কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দ। দেখলে মনে হয় এ যেন সড়ক নয়, মরণফাঁদ। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের এসব খানা-খন্দ পানিতে ভরে যায়। বিঘ্ন ঘটে যান চলাচলে।হায়দাগন্জ–হাজিমারা সড়কে সড়কে তীব্র ভোগান্তিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। অবশেষে প্রায় আড়াই বছর পরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার টেন্ডারে ৫কিঃমি সংস্কার হচ্ছে,তবে রায়পুর উপজেলা এলজিইডি অফিস এখনো ওয়ার্ক অর্ডার পায়নি।


প্রায় ৪ বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে খানা-খন্দ ভরা এই সড়কের ৫কিঃমি অংশ মাইনর মেইনটেনেস প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করা হয়েছিল। এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছিল। এভাবে বিপদের আশঙ্কা নিয়েই যান চলাচল করছে গ্রামীণ এই আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। ভারী যানবাহন ও ইটভাটার অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে সড়কটি সংস্কারের ৬ মাস না যেতেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই অবৈধ যানবাহনগুলো বন্ধে এবং সড়কটি সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন গ্রামবাসী। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটিতে ধীর গতিতে চলছে যানবাহন। ফলে এই ৫কিঃমি কিলোমিটার সড়ক ৩০ মিনিটের যায়গায় ১ ঘণ্টায় পার হতে হয়।


এছাড়া মাঝে-মধ্যেই রাস্তায় নষ্ট হয়ে পড়ে থাকছে যানবাহন। এ কারণে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এই সড়ক দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর, খাসের হাট, হায়দরগঞ্জ, হাজীমারা ও রায়পুরসহ পশ্চিমের বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন চলাচল করে।


আবুল কালাম নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের বিপুল টাকা খরচ করে সংস্কার করা হলো এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। অথচ কয়েক মাস না যেতেই এমন বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয় স্থানীয় দুটি ইটভাটার প্রায় ৫০টি ট্রাক্টর ও বেশি ওজনের বড় ট্রাক চলাচলের কারণে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, এই সড়কে সংস্কার কাজ শেষে বিল উত্তোলন করার সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বাধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বিল তুলে নিয়ে যায়। আর নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে কাজের ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে ওই ঠিকাদারের তা ঠিক করে দেয়ার কথা। কিন্তু সেখানে তা করা হয়নি। এটা সরকারের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।


সরেজমিন খাশেরহাট-রায়পুর সড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, স্টলের ব্রিজ,ইটভাটা, চৌরাস্তা, সহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খাল-খন্দ উঠে গেছে চলার মতো কোনো ব্যবস্হা নাই এর সাথে,মালেক খান বিজ,হাজীমারা,মোল্লার হাট, আখন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বড় বড় খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ১ হাজার ছোট-বড় যান চলাচলসহ লক্ষাধিক গ্রামবাসী যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের খানা-খন্দে পানি জমে যায়। ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এই সড়ক চলাচলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।


উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশল হারুনুর রশিদ বলেন,হায়দরগন্জ থেকে হাজীমারা ও খাশেরহাট হয়ে মোল্লার হাট আঞ্চলিক এ ব্যস্ততম সড়কে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়নি। জেলার বৃহত্তম কৃষি অঞ্চল তথা ৩টি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ৫টি বাজারের প্রায় লক্ষাধিক ব্যবসায়ী যাতায়াত করেন। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। জনগণের কাছে সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জনগনের দুঃখ – দুর্দশা অনুভব করে সড়কটি পূর্ন সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছিলাম তারই ধারাবাহিকতা প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। রায়পুর উপজেলা এখনো ওয়ার্ক অর্ডার আদেশ পায়নি।

জাতীয় এর আরও খবর: