সলঙ্গার হাটিকুমরুল গোল চত্বর পরিবহনে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

 প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন   |   সারাদেশ




 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল রোড গোল চত্বর।

যাকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার।উত্তরবঙ্গের ১৭ টি জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চল মিলে মোট ২২টি জেলার মানুষদের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়কে যাতায়াতের একমাত্র পথ।ইন্টারচেঞ্জের কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের পুরাতন গোলচত্ত্বরটি ভেঙ্গে চারপাশে গড়ে উঠেছে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড।এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা-বগুড়া বাসস্ট্যান্ড।যা দুরপাল্লার পরিবহনগুলোর অন্যতম বাসস্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত।আর এই নতুন ব্যস্ত মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ডটি সম্প্রতি একটি স্থানীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় রাধানগর,ধোপাকান্দি,চকপাড়া,চড়িয়া উত্তর পাড়ার নেতা পরিচয়ে কিছু যুবক গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা তুলছে।বাস চালকদের জিম্মি করে এভাবে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।হাটিকুমরুল ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি,বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী আবদুল লতিফ এই সিন্ডিকেটের প্রধান বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ভাষ্য মতে,চাঁদাবাজ এই সিন্ডিকেটের সদস্য বাহিনী প্রায় ৪০-৫০ জন।অনুসন্ধানে জানা যায়,উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা,চট্টগ্রাম,সিলেট,কুমিল্লা, কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাসগুলো এসে হাটিকুমরুল মহাসড়ক ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী উঠালেই প্রতি গাড়িতে সিন্ডিকেট চাঁদাবাজদের দিতে হয় পাঁচশত থেকে এক হাজার টাকা। এমনকি দুই থেকে তিনজন যাত্রী তুললেও দিতে হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা।গাড়ি এসে থামলে চেইন মাস্টার পরিচয়ে এগিয়ে যায় এ সব ভয়ঙ্কর  চাঁদাবাজরা।গাড়ির হেলপার-সুপারভাইজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি  জানালেই যাত্রী তুলতে দেয়া হয় না। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ যাত্রী।তাই বর্ধিত ভাড়ায় পৌঁছাতে হচ্ছে গন্তব্যে।শুধু তাই নয়,সকাল ৮টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৫ জন এবং দুপুর ২টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত অন্য ২৫ জন শিফট ভাগ করে চাঁদাবাজী চলছে।এই চাঁদাবাজীর টাকার একটি বড় অংশ উল্লাপাড়া শ্রমিক অফিস,হাটিকুরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ,সলঙ্গা থানা পুলিশও পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে উক্ত বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী তুলতে দেয়া হয় না।

কয়েকটি বাসের স্টাফ জানান,হাটিকুমরুল রোড ঢাকা মহাসড়কে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজীর কারনে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।এদের সিন্ডিকেটে পুরো জিম্মি হাটিকুমরুল পরিবহন সেক্টর।চাঁদাবাজি আতঙ্কে হাটিকুমরুল মহাসড়ক বাসস্ট্যান্ডে বন্দী হয়েছি পরিবহন মালিকরা।    

প্রতিবাদ করলে সমস্যা,পরদিন আর আমরা বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি ধরাতে পারবো না,তাই নিরবে সহ্য করে থাকি।তাদের দাবী,এ সব অবৈধ চাঁদা বন্ধ করা উচিত।পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বে এর চাঁদাবাজরা আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিবে।এভাবে চলতে থাকলে ভাড়ার অর্ধেক টাকা এদেরকেই দিয়ে যেতে হবে।কথা হয় দুরপাল্লার  কয়েকজন বাসের স্টাফদের সাথে তারা দুঃখ করে বলেন,নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন।সরকার গঠনের পর থেকেই পরিবহন সেক্টরে মনোযোগী বিএনপি সরকার।ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই মহাসড়কে চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণে কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়েছে নতুন সরকার।চাঁদাবাজীতে যদি বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানা গেছে।নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের পরিচয়ে এ সব চাঁদাবাজরা শুধু অপকর্মই করছে না বরং অবৈধ চাঁদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তিও চরম ভাবে ক্ষুন্ন করছে।স্থানীয় ফরহাদ পরিবহন,অপরূপা পরিবহন,আল্লাহর দান পরিবহন,এইচ কে পরিবহন,কথা এন্টারপ্রাইজ,হাটিকুমরুল এক্সপ্রেস পরিবহনের মালিকসহ অনেকেই অভিযোগ করেন,আমাদের পরিবহন প্রতি নির্ধারিত হারে চাঁদা না দিলে লতিফ বাহিনী গাড়িতে যাত্রী উঠাতে দেয় না।এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ চক্রের মূল হোতা রাধানগর মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে লতিফের সাথে মুঠোফোনে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান,বিষয়টি তাদের জানা নাই।আমাদের নজরে এলে তদন্ত করে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর বলেন,আপনার মাধ্যমে মহাসড়কে চাঁদাবাজীর অভিযোগ শুনলাম।তবে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

উল্লাপাড়া-৪ আসনের নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ মাও: রফিকুল ইসলাম খান বলেন,আমরা উল্লাপাড়া- সলঙ্গাকে চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত করতে চাই।"মহাসড়কে কোন ধরনের অনিয়ম বা চাঁদাবাজী সহ্য করা হবে না।অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে"।মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই বাস স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে চলমান অভিযোগ দ্রুত সমাধান না হলে যাত্রী ও পরিবহন খাত উভয়ই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগেই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সারাদেশ এর আরও খবর: