SME শিল্পের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর ও সময়াবদ্ধ নীতিমালা

 প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন   |   অর্থ ও বাণিজ্য


প্রেরক: কাজী আবু বকর ম্যানেজিং ডিরেক্টর,

করোনা ফ্যাশন লিমিটেড, ঢাকা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME)। হাজারো SME ফ্যাক্টরি শুধু রপ্তানি আয়ই বাড়াচ্ছে না, বরং বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনেও নিরলস ভূমিকা রাখছে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই সম্ভাবনাময় খাতটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাংকিং জটিলতার কারণে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

বাস্তবতার চিত্র: ঘোষণার সীমাবদ্ধতা

কাগজে-কলমে SME খাতের উন্নয়নের জন্য অনেক উদ্দীপনামূলক ঘোষণা আসলেও, মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিফলন খুবই সামান্য। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং কার্যকর তদারকির অভাব SME উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তাদের একটি ঋণের আবেদন বা ব্যাংকিং সুবিধার জন্য বারবার ব্যাংক শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়। এই অহেতুক দীর্ঘসূত্রতা শুধু উদ্যোক্তার উৎপাদনক্ষমতাকেই ব্যাহত করছে না, বরং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে বাধ্য করছে। ফলস্বরূপ, পর্যাপ্ত তারল্য সংকটে পড়ে অনেক সফল ও সম্ভাবনাময় কারখানা অকালেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রয়োজন সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা

শুধুমাত্র নমনীয় নীতি দিয়ে SME খাতের মুক্তি সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য একটি সুস্পষ্ট, বাধ্যতামূলক এবং সময়াবদ্ধ (Time-bound) সার্কুলার জারি করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের প্রস্তাবনাগুলো হলো:

 নির্ধারিত সময়সীমা: ঋণের আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মদিবস নির্ধারণ করে দিতে হবে।

 সহজতর প্রক্রিয়া: SME উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল এবং সহজতর করতে হবে, যাতে অযথা হয়রানি ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন কমে আসে।

 জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: প্রতিটি ব্যাংকে SME সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বতন্ত্র মনিটরিং সেল থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও উপসংহার

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, SME খাতের উন্নয়ন মানেই দেশের টেকসই শিল্পায়ন।

 শিল্প বাঁচলে কর্মসংস্থান বাড়বে: একটি কারখানা বন্ধ হওয়া মানে কয়েকশ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানো। তাই SME বাঁচানো মানেই কর্মসংস্থান সুরক্ষা।

 অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি: দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (GDP) SME খাতের অবদান বাড়াতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত একটি সহায়ক পরিবেশ অপরিহার্য।

আসুন, শুধু নীতিমালার বেড়াজালে সীমাবদ্ধ না থেকে, SME খাতের উন্নয়নে বাস্তবধর্মী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের উৎসাহিত করি। SME বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

অর্থ ও বাণিজ্য এর আরও খবর: