সাধু শুদ্ধাচার।
এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার পিপিএম
সাধু যমুনার জলে নাইতে নামিয়া
নীলাভ সলিলের পানে চাহিয়া,
বিড়বিড় করিয়া অব্যক্ত কথাগুলো বলিছে আপন মনে।
কি কথা কাহার সনে, দশ রকমের ভাবিছে দশজনে-
সবার ভাবনা নিজের সাথেই তুলনা আপন মনে।
হয়তো মিলেনি কাহারো,
আবার মিলিতেও পারে কাহারো সাথে।
সকলেই যদি একমনে হয়ে সাধুর কথাই ভাবে,
জিগ্গাসা জাগিতে পারে, কি করিয়া সাধু
দশের মনে নিত্য বসত করে?
সাধু কহিছে নিজের সাথেই নিজের অবলা কথা,
সুধিছে নিজেই নিজের ছবিকে-
দেখিছে আঁখিতে আঁখি মিলিয়ে,
স্বরূপ কেমনে সাধিতে হইবে,
শুদ্ধাচারে পূর্ণতা লাভ, ভাবিছে কেবলি তথা।
দূর হইতে যাহারা দেখিতেছে তাহারা
সাধু জলে নামিয়া করিছে কি খেলা,
কি খেলা তাহার আপন মনে!
যাহার যা বিবেক জ্ঞান যতোটুকু
ভাবিছে তাহারা কেবলি সেটুকু।
কহিছে সাধু বিড়বিড় করিয়া
মন্দ সকলি বর্জন করিয়া,
ভালো থাকা যায় শুধু-
ভালো কাজ করিয়া।
যদি অন্যের ভালো বলিতে না পারো,
যদি ন্যায় অন্যায় বুঝিতে না পারো,
ভালো মন্দের অনুধাবন না করো,
মানবতার মুকুট পড়ার কেন মিছে আশা করো?
মানবতাটুকু ফিরে নাহি এলে
নিজেকে প্রশ্ন নাহি করা গেলে
ওরে হতভাগা! ওরে হতভাগা!
ততদিনে সাধু-চিনিবে কি করে?
সাধু শব্দেই মুক্তির দিশা রহিয়াছে,
মানবতার যে অংশে আত্মার শুদ্ধি আছে
যে মানবতা শুদ্ধ আত্মা দিয়ে তৈরি,
কেবল নিজেকে প্রতিনিয়ত শুদ্ধ করার
চেষ্টার মধ্য দিয়া তাহা অর্জন করা সম্ভব।
সাধু তোমাদের মুক্ত করেই কেবল মুক্তি চাইছেন নিজে!
সেদিন যমুনার জলে নিজ পানে চাহিয়া
এরুপ মানবতার কথাই বলিয়াছিলেন সাধু
যাহা সে অর্জন করিতে চায়,
যাহা তাঁহার পরিচয় বহন করে,
যাহা তাঁহার চিন্তা এবং অস্তিত্বের প্রকাশ করে!
লেখক -পুলিশ সুপার, গীতিকবি, প্রাবন্ধিক ও কন্ঠ শিল্পী।
