যশোরের মনিরামপুর কোরবানীর পশুর হাট মালিকরা হতাশায় ভুগছেন।

 প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০, ০২:০৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধানঃ


করোনা ভাইরাসের কারণে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটছে যশোরের মনিরামপুরের পশুর হাটের মালিকগণের এবং পালনকারীরা। সব মিলিয়ে ২৪ থেকে ২৫ দিন কোরবানির ঈদের বাকি থাকলেও নেই কোন কেনাবেচা। যার ফলে পশু পালনকারী গরু-ছাগল এবং হাট মালিকদের দিন কাটছে হতাশার মধ্যে দিয়ে। মনিরামপুর উপজেলায় প্রধাণত মনিরামপুর সদর এবং রাজগঞ্জ এ দুটি বড় পশুর হাট। 

চলতি বছর মনিরামপুর সদর পশুর হাট টি ইজারাদার ফারুক আহমেদ লিটন সরকারের নিকট থেকে এক বছরের জন্য ক্রয় করেন ১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকায়। 


ইজারাদার দাবি করেছেন ভ্যাট আইটি যোগ করলে দুই কোটি বিশ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। শনিবার ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক এই দুটি হাট পাইলেও করোনার কারণে গত তিন মাস হার্ট চলেনি বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান প্রক্ষাপটে প্রতি হাটে টাকা উঠছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার। হাট ক্রয়ের টাকা তুলতে গেলে প্রতি হাটে ২লাখ ৫ হাজার টাকা লাগবে। একপর্যায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন হাট ইজারাদার ফারুখ আহমেদ লিটন, দাবি করেন এই অবস্থা চলতে থাকলে ৫০% টাকাও ঘরে আসবে না। রাজগঞ্জ পশুর হাট ইজারাদার মালিক পান্না খান একই ভাবে হতাশা প্রকাশ করে জানান, হাট ক্রয়ের অর্ধেক টাকা মওকুফের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছি। 


যদি ৫০% মওকুফ হয় সে ক্ষেত্রে বেঁচে থাকা সম্ভব। ইজারাদার মালিক পান্না খান জানান, এক বছরের জন্য ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকায় পশুরহাট ক্রয় করে, হাটে টাকা উঠছে ৩ থেকে ৪ হাজার করে। এর মধ্যে তিন মাসে হাট বসেনি করোনার কারণে। বর্তমান প্রক্ষাপটে কিছু সংখ্যক ক্রেতা বাজারে এলেও কিনা বেচা নেই মোটেও। এছাড়া বাইরের চালান ব্যবসায়ীদের এবার আসার কোনো লক্ষণ মনে হচ্ছে না। ফলে কোরবানির মুখোমুখি সময় হাটের এ অবস্থা যার কারণে পশু পালনকারী এবং হাট মালিকদের একই অবস্থা চলছে। কোরবানির জন্য পশু গরু পালন করে হতাশা কথা জানিয়েছেন, উপজেলা মশ্বিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন। দশটি গরু পালন করে তিনি চরম হতাশার কথা জানিয়েছেন। জানতে চাইলে, চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, দরদাম তো দূরের কথা কোনো ক্রেতাই নেই। 


ফলে লাভের আশা তো বাদই থাক, আগামী দিন ১০ টি গরুর জন্য যা ব্যয় হবে তাও লস। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিক ও পশু চিকিৎসক উত্তম সরকার জানান, এই বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য গরু প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ হাজার ৭'শ ২০টি। ছাগলও রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। তবে অধিকাংশ গরু পালনকারীগণ চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গরু নিয়ে। উপজেলার সব থেকে আলোচিত পশু পালন করেছেন হরগাতী গ্রামের হাশমত আলী। কুরবানীর জন্য প্রস্তুতকৃত দুটি গরু পালন করেছেন তিনি। উপজেলার সব থেকে বড় আকারের এই গরু দুটি একটি ওজন ২৫ মণ হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবু জার সিদ্দিকী। তবে গরু হিসাবে কোন খরিদ্দার নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। 


কাশিপুর গ্রামের আকরাম হোসেন কুরবানীর জন্য একটি গরু পালন করেছেন বিক্রয় জন্য প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। কিন্তু তার গরু হিসাবে দরদাম বলছে না কোন গরু ক্রেতা। পশু মালিক আকরাম জানান,২০- ২২ মণ ওজনের গরুটির মূল্য বলা হয়েছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা, যা খরচের অর্ধেকও আশা করা যাছে না। পাঁচবাড়িয়া গ্রামের অমৃত মন্ডল, তিনিও গরু পালন করে হতাশায় ভুগছেন। এ অমৃত মন্ডলের ২৭ মাস বয়সের একটি গরু আছে যার ওজন সাড়ে ২১ মণ ওজনের। খরিদ্দার বাড়িতে এলেও দরদাম না বলেই ফিরে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। 


একই অবস্থা শ্রীপুর গ্রামের খামারি ফারুক হোসেনের, আসছে কোরবানির জন্য ১৬টি গরু প্রস্তুত করেছেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ও গরু নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। চান্দুয়া গ্রামের খামারি নূরুল মোল্লা তিনিও ১৩ টি গরু প্রস্তুত রেখেছেন কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য। কিন্তু দরদাম দেখে হতাশায় ভুগছেন তিনিও। দুর্গাপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান একই আশন্নার কথা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতেই আগের ভাগে লাভ-লস মাথায় নিয়ে গোয়ালের গরু বিক্রি করতে দিয়েছেন। মোহনপুর গ্রামের জাকির হোসেন, বিজয়রামপুর গ্রামের সন্তোষ স্বর। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসেরএ পরিস্থিতিতে কেবল খামারিরা নয় আমার নিজেরও চরম দুঃশ্চিন্তায় মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে।

জাতীয় এর আরও খবর: