করোনা মৃতদেহ সংকার,সেচ্ছাসেবক শুভ রামদেবদের মানবতা।
পুষ্পেন্দু মজুমদার,
চট্টগ্রাম জেলা(সন্দ্বীপ) প্রতিনিধিঃ
করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে এক মৃত্যুর মিছিল এর সম্মুখীন করেছে আমাদের সকলকে।
এই ভাইরাস এর আক্রমণে বিশ্ব আজ ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। বিশ্বের সকল সদস্য যার যার ধর্ম মতে একটিই প্রার্থনা করে যাচ্ছে বিশ্ব যেনো অতি জলদি সুস্থতার পথ দেখে।
এই মহামারিতে করোনাই আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে কিছু সেবা মূলক সংগঠন। যার মধ্যে চট্টগ্রামের "করোনা মৃতদেহ সৎকার সেচ্ছাসেবক সংঘ" অন্যতম অবদান রেখে চলেছে। আমি গর্বিত আমি একজন সেচ্ছাসেবী ''করোনা মৃতদেহ সৎকার সেচ্ছাসেবক সংঘে।।
একটা অভিজ্ঞতা তুলে ধরা চেষ্টা করছি । তবে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে এটা সর্ম্পনূ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।।
সময় টা স্বাভাবিক দিনের মতন না। যা হচ্ছে তা বাস্তবেই অস্বাভাবিক। তবু এই অস্বাভাবিক কে স্বাভাবিক মেনে নিয়ে গতকাল এই সংঘ সৎকার কার্য সম্পন্ন করলাম। দিনটা বর্ষা আচ্ছন্নদৃষ্টিতে ঢাকা ছিলো। থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হচ্ছি দশটার দিকে।হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো আমাদের মূখ্য সচিব ডাঃ যীশু দেব দাদাশ্রী.. বললো তুই তোর টিম নিয়ে রেডি হ,বোয়ালখালী উত্তর ভূর্ষির নিবাসী শ্রী দীপক সেনগুপ্ত মারা গিয়েছে, তাকে নিয়ে তার এলাকাতে যেতে হবে সৎকার করার জন্য । সঙ্গে সঙ্গে টিমের সবাইকে ফোন দিলাম..টিমে ছিলাম শুভ রাম দেব, রাজু দাশ,রিপন, সঞ্জয় শীল ও রাসেল শীল। তখন ফোন দিলো আমাদের আহ্বায়ক সুমন পাল দাদাশ্রী বললো সব কিছু রেডি তোরা চেরাগি পাহাড় মোড়ে চলে আয় তখন বাজে সকাল ১১ টা.. তারপর সি এন জি যোগে চলে গেলাম চেরাগি পাহাড় মোড়ে.. তারপর লাশে গাড়ি সহ চলে গেলাম নিদিষ্ট স্থানে তাহার বাড়িতে। তখন বাজে দুপুর ২ টা। হালকা নাস্তা করে কাজে নেমে পড়লাম গাছ কাটা, শশান সাজানো তারপর ধর্মীয় আচারবিধি সর্ম্পন করে মুখানিত করে দিলো ছেলে। তখন বাজে বেলা ৬ঃ৩০। তখন হঠাৎ আবার ফোন আসে আমাদের আহ্বায়ক সুমন পাল দাদাশ্রী.. খবর দিলো, বিকাল ৫ঃ৪০ টা নাগাদ তথ্য পায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আনোয়ারা সিংহরা নাথ পাড়ার বাসিন্দা নিখেল চন্দ্র নাথ covid19 positive হয়ে মারা যান। তখনি আমরা রওনা দিলাম জেনারেল হাসপাতালের দিকে। গিয়ে উপস্থিত হওয়ার পর আমাদের সাথে যোগ দিলো রাজীব পাল দাদা ও বিশাল দেব। তখন সেচ্ছাসেবকদের মাঝে ছিলাম
শ্রী রাজিব পাল,শুভ রাম দেব, সঞ্জয় শীল,রাসেল শীল ও বিশাল দেব। তারপর রাত ১০ঃ৩০ দিকে বডি পেকিং করি এবং তাদের পূর্ব নির্ধারিত শশান তাদের নিজ বাড়িতে মৃতদেহ নিয়ে যায় । তারপর আমরা রাত ১২ টা দিকে ওনাকে সমাদি স্থলে বসালাম এবং তারা শাস্ত্র মতে সকল আচারবিধি সম্পন্ন করে। এরপর আমরা মাটি দিয়ে সমাদির কাজ সম্পন্ন করি এবং সব শেষে বাসায় এসে পৌছালাম রাত ৪টা...
আর কত প্রাণের বিনিময়ে শান্ত হবে এই করোনা ভাইরাস এর মৃত্যুর মিছিল তা এখনো অজানা। তবে সবাই এই আশা নিয়ে জীবনযাপন করছে যে একদিন শেষ হবে প্রাণনাশক এই ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব। ততদিন সুস্থ থাকুক এই পৃথিবীর সকল সদস্য।
