রায়পুরে স্ত্রীর অশ্লীল ছবি তুলে যৌতুক দাবি।
রায়পুর(লক্ষীপুর)প্রতিনিধি জিহাদ হোসাইনঃ
লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ের ইউপি সদস্য সুমন (মেম্বার) স্ত্রীর অশ্লীল ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। এঘটনায় তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় স্বামী সুমন(৩৫) মিঝিকে গ্রেপ্তার করে রায়পুর থানার পুলিশ।
সুমন উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার)।
সোমবার বিকেলে সুমনকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তাকে রায়পুর পৌর শহরের প্রধান সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাত ১১টার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, অশ্লীল ছবি তুলে যৌতুক দাবি ও মারধর করার ঘটনায় ৯ জুলাই স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামী সুমনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। অন্য আসামিরা হলেন, সুমনের মা নয়ন বেগম, বোন শাহানাজ বেগম ও ভাই মো. টুটুল।
মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে সুমন বিয়ে করে। তখন তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে ফার্নিচার নিয়েছে। সুমন নেশাগ্রস্ত ও পরকীয়া প্রেমে জড়িত। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে মারধর করত। এতে তার শাশুড়ি, ননদ ও দেবর সহযোগিতা করত।
গত ৩০ নভেম্বর এফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রী তাকে তালাক দেয়। পরে ক্ষমা চাইলে ২৩ ডিসেম্বর তালাক প্রত্যাহার করে নেয় তার স্ত্রী। ফের তারা সংসার শুরু করে। এরই মধ্যে সুমন তার স্ত্রীর কিছু অশ্লীল ছবি মোবাইলে ধারণ করে। ছবিগুলো পুঁজি করে চলতি বছর এক জুলাই সুমন তিন লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
কিন্তু টাকা দেওয়া সম্ভব না বললে একই দিন সুমন তার শাশুড়ি ও নানি শাশুড়িকে বাড়িতে ডেকে নেয়। তাদের কাছে দাবি করা টাকা দিতে বলা হয়। টাকা দিতে পারবে না জানালে তাদের সামনেই স্ত্রীকে মারধর করে সুমন। মেয়েকে বাঁচাতে এলে মা ও নানিকে পিটিয়ে আহত করে সুমনসহ আসামিরা। মামলায় আসামী করা হয় চারজনকে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সুমন মিঝির পরিবারের ভাই টুটুল বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমি ও আমার ভাই ঢাকায় যাওয়ার পথে রায়পুরে থানার সামনে থেকে রায়পুর থানার পুলিশ যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার করে।আমরা সম্পূর্ণ নির্দোষ।
