রায়পুরে মেঘনা উপকূলবর্তী ৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি, শরিফ হোসেনঃ
পূর্ণিমার জোয়ার ও সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী অন্তত ১৩টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসময় বহু এলাকা প্রায় ৫-৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারে উপজেলার ১৩টি গ্রামে ফসল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (৫ আগষ্ট) দুপুর ১২টা থেকে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে সন্ধ্যার দিকে বিভিন্ন এলাকায় পানি আরো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
মেঘনা জোয়ারের পানিতে আউশ ধানের মাঠ, আমনের বীজতলা ও রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুরের মাছ, গবাদি পশু ও বাসস্থান ভেসে যায়।
দুপুরে জোয়ারে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিন চৌধুরী
রায়পুরে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় চারটি ইউনিয়নের ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানি আটকে থাকার কারণে বেড়িবাঁধের বাহিরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
গত ৩ দিনের মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে ফসলের।
সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, প্লাবিত গ্রামগুলো হলো,পুড়ানবেড়ী, আলতাফ মাষ্টার মাছ ঘাট,সাজু মোল্লার ঘাট, চর আবাবিল, মোল্যারহাট হাজীমারা, চরকাচিয়া, জালিয়ারচর, মিয়ারহাট, চরলক্ষ্মী, উঃচরবংশী, চর ঘাসিয়া, টুনুর চরসহ ১৩টি গ্রাম। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহপালিত পশু ও বৃদ্ধ এবং শিশুরা।
অস্বাভাবিক জোয়ারে কারণে নিন্মাঞ্চল এলাকার সংযুক্ত খাল, বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ, কোথাও কোমর পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার পুকুর, মাছের ঘেরের অন্তত অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।
এসব এলাকার বেশীরভাগ অঞ্চল জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এদিকে ওই অঞ্চলের অন্তত তিন হাজার পানের বরজ কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এদিকে টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী জানান, জোয়ারের পানি বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ও সড়কের গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণের কাজ চলছে।
ইয়াছিন হোসেন বলেন, কয়েক বছরের মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে অনেক জমিন মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই জোয়ারে ওই সব গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। এ সময় এলাকায় দুর্ভোগ নেমে আসে।
