২১-শে আগস্টের সেই দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আ'লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম।
মোরশেদ আলম,সোনাইমুড়ী প্রতিনিধিঃ
আজ সেই ২১-শে আগস্ট! ২০০৪ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির আরেকটি কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছিলো। ১৬-বছর পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম ভুলতে পারেনি সেই ২১-শে আগস্টের রক্ত রঞ্জিত দিনটির কথা।
২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর কোলে হেলে পড়া মানুষ গুলোর মৃত্যু যন্ত্রণার দিনটি এখনো তাড়না করে বেড়ায় জাহাঙ্গীর আলমের হৃদয়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সেই সমাবেশ নেত্রীর পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন তিঁনি। চাটখীল-সোনাইমুড়ীর আওয়ামী লীগ নেতা প্রধান মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী এবং নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গতকাল এক টিভি সাক্ষাৎকারে জানান, ২০০৪ সালের সেই গ্রেনেড হামলায় নেত্রীর সমাবেশে ফেন্ডেলের পাশেই দাঁড়ানো ছিলাম, হঠাৎ করেই জোরে শব্দ হলো আর চার দিকে অন্ধকার হয়ে গেলো। সাথে সাথে দেখলাম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী এবং বর্তমান বিসিবি সভাপতি নাজমুল ইসলাম পাপনের মা,আওয়ামীলীগের নেত্রী আইভি রহমানের শরীরে গ্রেনেডের আঘাতে স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন আর রক্তে ভেজে গেছে সারা শরীর। আওয়ামী লীগের হৃদয়ের স্পন্দন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলীয় কিছু নেতা কর্মীরা ঘিরে মানববন্ধন করে রেখেছেন। এমন সময় তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরছে, তাঁর চশমাটা পর্যন্ত লুটিয়ে পড়ে আছে। আমি গাড়ির দরজার লক খোলার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা। পরে দরজার লক ভেঙে উনাকে আমরা কয়েকজন একটা গাড়িতে উঠালাম এর পাশেই আরেকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ হয়।একের পর এক গ্রেনেডের শব্দে মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় ২৩- বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। একটু ঘুরে তাকাতে দেখি লক্ষ লক্ষ জুতা পড়ে আছে, একটা লাশের উপর আরেকটা লাশ পড়ে আছে। তারপর উনাকে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। আজও ভুলতে পারিনা ঐ দিনটির কথা। তিনিঁ আরও বলেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর পাশে এতো সিকিউরিটি এতো নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ এবং এতো নেতা থাকতেও কেউ এগিয়ে আসেননি গুটি কয়েক নেতা ছাড়া। আল্লাহ রক্ষা না করলে হয়তো ১৫-ই আগস্টের মত আরেকটি দিন দেখতে হতো আমাদের। সেই দিনের রক্তে মাখা কালো দিনের কথা আজও ভুলতে পারিনি। এই জঘন্য নিকৃষ্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান তিঁনি।
