ব্ল্যাড ব্যাংক এখন আর ঐচ্ছিক নয়,অপরিহার্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্য।

 প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়


মোঃ আলমগীর হোসেন ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ 

 করোনার কারনে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটা ব্ল্যাড ব্যাংক (প্লাজমা ব্যাংক) গোড়ে তোলা অত্যাবশ্যক বলে মনে করি।ব্লাড ব্যাংকটা গত বছর হয়তো ঐচ্ছিক ছিল,কিন্তু এ বছর অপরিহার্য। কেননা ১৯৫৪ সালের বন্যার কথাই বলি, কিম্বা ১৯৭০ এর ঘূর্নিঝড়;ছাত্রলীগ এদেশের মানুষের যেকোন দুর্যোগে সামনে থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে।


 ব্লাড ব্যাংকের সাথে ছাত্রলীগ যে পরিচিত নয় তা নয়।

এদেশে রোজ যতগুলি কারনে ছাত্রলীগের ছেলেগুলির ডাক পড়ে,তার অন্যতম রক্তের প্রয়োজন।আমরা সে কাজটা হয়তো পরিচিত কোন মেডিকেলের ছাত্রলীগের কর্মীর মাধ্যমে বা সন্ধানী বা বাধন এমন ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে "ম্যানেজ" করে দেই।আবার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির কর্মীও আমরাই।


ফলে নতুন করে ব্লাড ব্যাংক করার ক্ষেত্রে আমাদের খুব যে ক্লেশ যাবে,তা নয়।পুরনো কর্মপন্থাকে শুধু নতুন কাঠামো দিতে হবে।আমাদের কর্মী গুলিকে শুধুমাত্র আমাদের নিজস্ব নামে কাজ করতে হবে।যে আগে সন্ধানীর নামে কাজ করত,সে এখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নামে কাজ কর‍বে।ফলে যে ফোন গুলি আগে বাধনের নাম্বারে যেত,তা এখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম্বারে আসবে।


আমাদের একটা সুনির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করতে হবে মাত্র।আমাদের "হ্যালো ছাত্রলীগ "  অ্যাপটা কে কাজে লাগাতে হবে এজন্য।কদিন আগে লকডাউনের সময় অ্যাপটা দিয়ে আমরা অসহায়ের মাঝে খাবার বিতরণ করেছি। এখন এই অ্যাপটা দিয়ে আমরা রক্তের ব্যাবস্থা করব।নেতাকর্মীর নাম ও নাম্বার ওখানে দেয়াই আছে,এখন শুধু যোগ হবে ইউনিট ভিত্তিক স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা সম্পাদক এবং ইউনিট গুলির অধিনে মেডিকেল কলেজ গুলির ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম  ও মোবাইল নাম্বার। 


কর্মপন্থার সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমটা করতে হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মানিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মহোদয়কে।মুলত তাদের একাগ্রতার উপরই নির্ভর করবে ব্লাড ব্যাংকের কার্যকারিতা।যদি তারা চান দেশের আনাচে কানাচে যে সমস্ত নামকাওয়াস্তে ব্লাড ব্যাংক গড়ে ওঠেছে তাদের পথে না হেটে ব্লাড ব্যাংককে সবার কাছে পৌঁছে দিবেন,তাহলে প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা শাখা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে বা যে কোন মাধ্যমে ব্লাড ব্যাংক গড়ার খবর পৌঁছে দেয়া। একই সাথে তাদের নির্দেশ প্রদান করতে হবে,যে কেউ রক্তের জন্য কল করলে তাকে সাহায্য করার জন্য স্বাস্থ্য সম্পাদক বা সমাজসেবা সম্পাদকের সাথে রক্ত প্রত্যাশী ব্যাক্তির যোগাযোগ করিয়ে দেয়া।(যে সমস্ত ইউনিটে কমিটি নেই,বা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নেই;তাদের গঠন তন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে) 


ইউনিট ভিত্তিক ৫ জন বা ১০ জনের একেকটা টিম গঠন করা যেতে পারে যাদের কাজই হবে ডোনার বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করা।আমাদের ৫০ লক্ষ নেতাকর্মী আছে।আমরা যদি চাই,এদেশে আমাদের ব্লাড ব্যাংকের বড় এবং কার্যকর কোন ব্লাড থাকবে না।আমাদের আগে এই নেতাকর্মীর ব্লাড গ্রুপ নির্নয় করতে হবে।একদিনে হবেনা,কিন্তু প্রত্যেকদিন ১০ জন করে টেস্ট করালেও একদিন ঠিকই সবার গ্রুপ নির্নয় হবে।যখন আমাদের হাতে ৫০ লক্ষ রক্তদাতার বিশাল এক ডেটাবেস থাকবে,এদেশের একজন মানুষেরও অন্য জায়গায় যেতে হবে না।


দিকনির্দেশনা হতে হবে প্রনোদনার মত।ইউনিট গুলিকে জানিয়ে দিয়ে হবে,টাকা-পয়সা,মারামারি -কাটাকাটিতে

নয়;পদ নির্ধারিত হবে ভাল কাজের মাধ্যমে।আপনারা আমাদের নির্দেশ মেনে কৃষকের ধান কেটেছেন,খাবার দিয়েছেন লক ডাউনের নির্মম সময়ের।এবার আপনাদের গড়ে তুলতে দেশের সর্ববৃহৎ ব্লাড ব্যাংক।

ছাত্রলীগ যারা মন থেকে করে,চেইন অফ কমাণ্ড তাদের কাছে শিরোধার্য। কেন্দ্র থেকে সেভাবে দিকনির্দেশনা দেয়া হলে পরের দিন থেকে তা কার্যকর করার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


কলামটি লিখেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমাজসেবা সেল এর যোগ্য সম্পাদক শেখ স্বাধীন মোঃ শাহেদ।

জাতীয় এর আরও খবর: