শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দৃপ্ত শপথ রেখেই বিদায় নিলেন গোপালগঞ্জ আ.লীগ সভাপতি
রাজনীতির দীর্ঘ পথপরিক্রমা আর হিসাব-নিকাশের খাতা বন্ধ করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই তাঁর জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বরের সম্মেলনে তাঁকে দলটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমৃত্যু তিনি এই শীর্ষ পদে থেকে গোপালগঞ্জে দলের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর ছিল আজীবন অবিচল আস্থা ও গভীর আনুগত্য। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি নেত্রীর আদর্শ বুকে ধারণ করে গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে অটল থেকেছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর সারা দেশ যখন থমথমে, ঠিক সেই দুঃসময়েও তিনি সেই আস্থার পরিচয় দিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি যে শপথ পাঠ করেছিলেন, তা আজ রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে গভীর স্মৃতির পাতায় জমা হলো।
সময়টা সহজ ছিল না। দলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের মধ্যে তিনি ছিলেন কর্মীদের ছাতা। টুঙ্গিপাড়ার সেই ভিডিওতে তাঁর কণ্ঠে যে দৃঢ়তা শোনা গিয়েছিল, তা ছিল তাঁর অবিচল রাজনৈতিক বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ। সেদিন তিনি দৃপ্তকণ্ঠে যে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন—
"আমি শপথ করছি যে, যতদিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে না আনব ততদিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। আমি আরও শপথ করছি যে, তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া সব অন্যায়ের প্রতিশোধ নেব। আজ থেকে আমাদের আন্দোলন শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। আমি এই শপথ বাক্য বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ছুঁয়ে করছি। আমাদের এই শপথ মহান রাব্বুল আলামিন কবুল করুক। আমিন, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।"
তাঁর সেই উচ্চারিত বাক্যগুলো আজও সারা বাংলাদেশের বাতাসে মিশে আছে এবং দেশের নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছে।
আজ মাহবুব আলী খান নেই। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ইতি টেনে তিনি চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু রেখে গেছেন এক অসমাপ্ত রাজনৈতিক অধ্যায় এবং নেত্রীকে ফিরিয়ে আনার সেই আমৃত্যু অঙ্গীকার। মানুষ বাঁচে তার কর্মে ও আস্থায়। নেতার প্রয়াণে স্তব্ধ গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন।
তাঁর সেই শপথের প্রতিধ্বনি হয়তো নেতাকর্মীদের মনে দীর্ঘকাল বেজে চলবে। ওপারে ভালো থাকুন, মাহবুব আলী খান।
