ত্রিশালে মাদরাসা পরিচালকের লালসার শিকার গৃহবধূ
রাজু হোসেন নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে লম্পটদের থাবা এবার এক গৃহবধূর শোবার ঘরে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক মাদরাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী (৩৮) গত ১৪ মার্চ ত্রিশাল থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ওই পরিচালকের নাম রেজাউল করিম শেখ (৩৫)। তিনি উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের বাহারুল উলুম কওমী মাদরাসার পরিচালক বলে জানা গেছে।ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর সন্তানরা রেজাউল করিমের মাদরাসায় পড়াশোনা করার সুবাদে ওই পরিচালক প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই ওই গৃহবধূকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু লোকলজ্জা ও ধর্মীয় গুরুর সম্মানের কথা ভেবে ওই নারী বিষয়টি এড়িয়ে চলতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল তাকে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেন। ঘটনার চূড়ান্ত রূপ নেয় গত ১৪ জানুয়ারি রাতে।
ভুক্তভোগী জানান, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি তার ৫ বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় কৌশলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে রেজাউল করিম। তিনি ওই নারীকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। গৃহবধূ তীব্র প্রতিবাদ জানালে লম্পট রেজাউল তার ওপর চড়াও হয় এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করে।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতে শুরু করলে অভিযুক্ত রেজাউল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গৃহবধূর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার স্বামী-সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিবাদী পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ও তার মাদরাসা পড়ুয়া ছেলেকে অপহরণসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে ও নিরাপত্তার কথা ভেবে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মের লেবাসধারী এই লম্পটকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
