পরকীয়া কাণ্ডে উত্তাল সলঙ্গা : প্রধানদের নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় পরকীয়ার অভিযোগে আটক ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গ্রাম প্রধানদের নামে হয়রানীমূলক মামলার অভিযোগ উঠেছে।প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে সাজানো মিথ্যা মামলা দায়েরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।বিএনপি'র নেতৃত্বদানকারী, সাবেক ইউপি সদস্যসহ গ্রাম প্রধানদের নামে গহনা চুরির এমন কাল্পনিক মামলা ধোঁয়াশা বলে নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে।হোটেল মালিক কাঞ্চন বিধবার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটকের ঘটনা জনবহুল "দৈনিক কলম সৈনিক" পত্রিকারসহ বেশ কিছু দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।যা এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,সলঙ্গা বাজারের বাসা মালিক মৃত আব্দুল লতিফের স্ত্রীর সাথে সলঙ্গা বাজারের এভার গ্রীন দই মিষ্টি ঘরের মালিক ভাড়াটিয়া কাঞ্চনের সাথে দীর্ঘদিনের পরকীয়া চলমান।যা এলাকায় নানা গুঞ্জণ বয়ে আনে।একপর্যায়ে গত (১ মার্চ) রবিবার গভীর রাতে পরকীয়া প্রেমিকা লতিফের স্ত্রীর বাবার বাড়ি বড়গোজায় আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে তারা আটক হয়।পরে পরকীয়া প্রেমিক কাঞ্চনকে পুলিশের হেফাজতে দেয় স্থানীয়রা।এমন প্রেমিক যুগলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও ঘুরপাক চলছে।পরকীয়ার ঘটনায় উভয়কে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে।এমনই অবস্থায় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় লতিফের স্ত্রী ফারজানা নিজেকে সাধু সাজতে স্থানীয় যুবদল নেতা,সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ,সলঙ্গা ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল শাখার সভাপতি কাবলু মিয়া,সলঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি নুরুন্নবী ও সোহান নামে স্থানীয় মাতব্বরদের আসামী করে গহনা চুরি ও শ্লীলতাহানীর কাল্পনিক মামলা দায়ের করেন। যা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অনুরূপ বলে অনেকেই মনে করেন।এদিকে নারী লোভী কাঞ্চনের ছেলে,এনসিপি পরিচয়দানকারী কর্মী জুয়েল রানা নাফি তার বাবার কুকর্ম ও কলঙ্ক ঢাকতে নামকাওয়াস্তে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন।যা এলাকায় হাস্যকর বলে সচেতন হলে জানা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বলেন,তার বাবা কাঞ্চন মৃত লতিফের স্ত্রী ফারজানা সিদ্দিকা চম্পাকে বিয়ে করেছেন। তাই স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে রাতে তার বাবাকে আটক করে স্থানীয়রা চাঁদা দাবী করে।তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায়,কাঞ্চন ভাড়াটিয়া থাকা অবস্থায় বাসার মালিক গৃহবধূ ফারজানার সাথে পরকীয়ায় জড়ায়।বাসার মালিক লতিফের মৃত্যুর পর ছলে বলে কৌশলে ফুসলিয়ে,লতিফের সন্তানাদি ও পরিবারকে না জানিয়ে সবার অজান্তে বিধবা ফারজানাকে বিয়ে করে।পরে বিষয়টি উভয় পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয় এবং ফারজানা তার নিজের ভুল বুঝতে পেরে ধুবিল ম্যারেজ রেজিস্টার ও কাজী অফিসে গিয়ে গত ১৬ জুন/২০২৫ বায়েন তালাক প্রদান করেন।যা রেজিস্টার বহিতে সংরক্ষণ আছে।শুধু তাই নয়,এরপর কাঞ্চন আরেক নারীকেও ৩ নং বিয়ে করে তাকেও তালাক দিয়েছেন বলে জানা যায়।এদিকে ফারজানা থানায় মামলা করতে গিয়ে অভিযোগ পত্রে স্বামীর নাম মৃত আব্দুল লতিফ উল্লেখ করেন।এমনকি সংবাদ সম্মেলনের বর্ণনার সাথে ফারজানার চুরি মামলার কোন মিল নেই।অর্থাৎ ফারজানা নিজেকে নির্দোষ দেখাতে সাজানো চুরির মামলা ও জুয়েল রানা নাফি তার বাবা কাঞ্চনকে বাঁচাতে অভিনব সাংবাদিক সম্মেলন করে।
তাই প্রতীয়মান হয় যে কাঞ্চন আদৌ ফারজানার স্বামী নয়।গ্রাম প্রধান ও বিএনপি কর্মীদের নামে প্রহসনমূলক মামলা করায় বিএনপি'র ভাবমূর্তিকে চরম ভাবে ক্ষুন্ন করা হয়েছে।যা স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।অনতিবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আগামীতে বিভিন্ন কর্মসূচীর ইঙ্গিত দিয়েছেন ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মী ও গ্রাম প্রধানরা।স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটনের দাবী জানিয়েছেন।
