কালকিনিতে ধানের সাথে এ কেমন শত্রুতা !
মো. জিয়াউদ্দিন লিয়াকত, নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুরের কালকিনিতে মো. মিজানুর রহমান (৬০) নামের এক অসহায় কৃষকের বোরো ধানের ক্ষেতে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভাগদী এলাকায়। আজ রোববার ভুক্তভোগী কৃষক সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০৩ নম্বর বিভাগদী মৌজায় আবুল কালাম বালির কাছ থেকে ২০১৩ সালে ২০ শতক ফসলি জমি ক্রয় করেন মো. মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকার মুজাম আকন, ইমরান আকন ও নুরুল হক সরদার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি নিজেদের দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে তারা আদালতে মামলা করলেও আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে প্রতিহিংসা থেকে রাতের আঁধারে ধানের জমিতে ঘাস মারার বিষ প্রয়োগ করে ধানের চারা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “২০ শতক জমিতে প্রায় ৩০ মণ ধান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই ধান দিয়েই আমার সারা বছরের সংসার চলত। ধানের সঙ্গে এমন শত্রুতা কেন—তা আমি বুঝতে পারছি না। আমি এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পশ্চিম শিকারমঙ্গল এলাকার বাসিন্দা কাসেম সরদার বলেন, “এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিজানুর রহমানকে ওই জমিতে ধান চাষ করতে বলেছেন। যারা এই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।”
পার্শ্ববর্তী জমির কৃষক আলম বেপারী বলেন, “মুজামরা বিষ দিয়ে ধান নষ্ট করেছে। পরে অন্যের নাম বলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মুজাম আকন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
