অসহায় দের জন্য ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার, হাসানুজ্জামান পিপিএম

 প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০৬:২৬ অপরাহ্ন   |   খুলনা


খোন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার, জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ। 


বৈশ্বিক মহামারি করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশসহ হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ উন্নত দেশগুলি। ঢাল,লাঠি, বন্দুক,বোমা কিছুই করোনার বিরুদ্ধে কার্যকরী নয়। মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত মরতে হচ্ছে এবং বাঁচার চেষ্টা করতে হচ্ছে মানুষকে।মৃত্যুর মিছিলে  কেউ এগিয়ে না আসলেও নাগরিক সেবায় ব্রত নিয়ে কাজ করাই ঝিনাইদহ পুলিশ বাহিনী তথা বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত কাজ। ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে পুলিশ বাহিনীর খাদ্য সামগ্রী উপহার অসহায়দের মাঝে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে।

পান থেকে চুন খসলেই যাদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে। ঘুষখোর অমানুষ বলে নানাভাবে গালাগালি করে। জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন সবাই ঘরে ঢুকে থাকে ঠিক তখনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ বাহিনী রাত নাই দিন নাই খেয়ে না খেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ জেলা বাসির সেবাই পরিশ্রম করে চলেছেন।

ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম একজন মানবিক মানুষ। নিম্ন আয়, হতদরিদ্র, কর্মহীন, অক্ষম, ভাসমান এবং অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে এবং ঢাকা থেকে রিক্সাচালকের ফোন, বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ঝিনাইদহের এসপি ও স্ত্রী-সন্তানের ফেলে রেখে যাওয়া প্রতিবন্ধীর দায়ভার নিয়ে অনুকরণীয় এবং বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন পুলিশ সুপার। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় প্রতিদিনই ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলার নিম্ন আয়, হতদরিদ্র, কর্মহীন, অক্ষম, ভাসমান এবং অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন।করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ঝিনাইদহের বাজারে একমুখী প্রবেশ চালু করেছে জেলা পুলিশ বাহিনী।

ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ৮ নং ওয়ার্ডের খাজুরা গ্রামে গত শনিবার ১১ই এপ্রিল খাজুরা গ্রামের এক ব্যক্তি কাসি, সর্দি জ্বর ও শ্বাস কস্ট জনিত কারনে মারা যান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের মরণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন, এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এমন আতংকে মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজন, পরিজন, পাড়া পতিবেশী কেউই মৃতের কোন সৎকার কাজে এগিয়ে আসেনি। খবরটি জেলার পুলিশ সুুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম জানতে পারেন। এর পর কাল বিলম্ব না করে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠান।ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার এর নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আবুল বাশার ও সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান সংগীয় ফোর্স সহ মুসলিম শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির গোসল, এবং জানাযা শেষে নিজেরাই মৃত ব্যক্তির কাফন পরানো খাটিয়া নিজেদের কাঁধে বহন করে দাফন সম্পন্ন করেছেন।

শৈলকুপার লোক করোনার ছোবলে ঢাকায় আটকে পড়া এক রিক্সা চালকের মোবাইল ফোনে করুণ আকুতি “স্যার আমার সন্তান ও পরিবারকে বাঁচান। তারা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে”।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম এর   সরকারী মোবাইল ফোনে শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর এক রিক্সাচালক জানান, তিনি ঢাকায় রিক্সা চালান কিন্তু করোনার কারণে আটকে পড়েছেন। সেজন্য তিনি বাড়ী যেতে পারছেন না ,গত তিনদিন তার পরিবারের পাঁচ সদস্য না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে । রিক্সা না চালানোর কারনে সে এখন বেকার হয়ে পড়েছে। উপায় না পেয়ে তিনি পুলিশ সুপারের নিকট ফোন করেছেন।এ ফোন পেয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম এক মাসের ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সেই পল্লীতে ।আনন্দে কেঁদে দিলেন  রিক্সা চালকের পরিবারের সদস্যরা।

“ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে চলে গেলেন স্ত্রী ও সন্তান”। প্রতিবন্ধী আশরাফুজ্জামান ঢাকার সাভার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর একসাথে ছিলো। 

গত ২ বছর আগে বাথরুমে পড়ে গিয়ে চলার শক্তি হারায় আশরাফুল। হুইল চেয়ারে কোনমতে চলাফেরা করতে পারে। সংসারে অভাব অনটনে আর করোনা আতংকে স্ত্রী নাসিমা জামান ও ছেলে মনিরুজ্জামান ওই ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে চলে যায়।

দীর্ঘ ২৫দিন পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ঢাকা থকে গ্রামে বাড়ি ফিরলেও বাড়িতে উঠতে দেয়নি চাচাতো ভায়েরা। উপায়ান্তর না পেয়ে, মামা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রভাবশালী এক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ীতে গেলেও সেখান থেকেও তাড়িয়ে দেয় ওই জনপ্রতিনিধি।অবশেষে পিকআপ চালকরা বুধবার রাতে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের গোয়ালপাড়া বাজার এলাকার রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় আশরাফুলকে।

বিষয়টি জানার পর ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুুজ্জামান পিপিএম তাৎক্ষনিক তার চিকিৎসার দায়ভার গ্রহণ করেন এবং ৬৫ বছর বয়সী শারিরিক প্রতিবন্ধি আশরাফুজ্জামানকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করান পুলিশ হাসানুজ্জামান পিপিএম।যতদিন তার পরিবারের লোকজন দায়িত্ব না নেবে ততদিন জেলা পুলিশ বাহিনীর তত্বাবধানে থাকবে আশরাফুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম।

পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম বলেন, কেউ যখন আশরাফুজ্জামানকে গ্রহণ করেনি। জেলা পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করেছি। যতদিন তার অভিভাবক না পাওয়া যায় ততদিন আমরা তার পাশে থাকব।

খুলনা এর আরও খবর: