ঝিনাইদহে সরকারি জমি থেকে লাখ টাকার গাছ কাটলো দুইজন,নায়েব বলছেন লাকড়ি কেটেছে,

 প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন   |   খুলনা


খোন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার, জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ। 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১ নং সাধুহাটি ইউনিয়নে সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে শহিদুল ইসলাম ও আনসার আলী নামের দুই ব্যক্তির নামে। শনিবার সকাল থেকেই তারা এই জমিতে থাকা কাঠালগাছ ও আম কেটে বিক্রয় করে দেয়।


হাজরা গ্রামের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন গ্রামের ১/১ খতিয়ানের ৬৪৯ নং দাগের ০.৪৪ একর জমিতে ছিল কাঠাল গাছ,আমগাছ সহ বিভিন্ন ধরনের গাছ। যা পাশের ওয়াড়িয়া গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রিয় করে দেয় উপরের এই দুই ব্যক্তি। শনিবার সকালে গাছ মারার সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এর আগেই ঘটনা জানানো হয় স্থানীয় ভূমি অফিসে।


সাংবাদিকরা ঘটনা স্থলে পৌছানোর আগেই ট্রলিতে করে ৪ ট্রলি গাছের গুড়ি পাশের কোটচাদ পুর উপজেলার লক্ষীপুর বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সাংবাদিকরা যেয়ে ৬টি গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পায়। যার আনুমানিক মূল্য নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা।


এই ঘটনায় ঘটনা স্থলে যায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা(ছোট নায়েব) মইনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এরা ভূল করে এই গাছ কেটে ফেলেছে। গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।


কিন্তু সাংবাদিকরা চলে আসলে তিনি গাছ কাটা ব্যক্তিদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে গাছ জব্দ না করেই চলে যান। পরে একাধীক বার তাকে ফোন দিলেও আর রিসিভ করেননি। ফোন রিসিভ করেননি ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তাও।


এই বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার কে জানালে তিনি সরজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।


আনসার আলী অভিযুক্ত

এদিকে জানাগেছে,ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার সাথে যোগ সাজোস রয়েছে শহিদুল ইসলামের। এই শহিদুল ইসলাম ২০১৪ সালের দিকে এই গ্রামের দুঃখী সাইজির আশ্রমের ৫৮ শতক জমির জাল দলিল করে দখলের পায়তারা করেছিলেন। সেই সময় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লীষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ হলে পিছু হটে শহিদুল। এই ঘটনা জানার পর ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এডিসি রেভিন্যিউ কে দায়িত্ব দেন। এডিসি রেভিন্যিউ এই জমি পুণরায় দুঃখী সাইজির আশ্রমের নামে নাম পত্তন করে দিতে স্থানীয় ভূমি অফিসে নির্দেশ দিলেও গত ৬-৭ মাসে এখনও প্রতিবেদনই দাখিল করেননি বলে জানাগেছে।

 

এদিকে হাতেনাতে সরকারি সম্পদ ধ্বংসের এই ঘটনা সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা স্থানীয়গ্রাম বাসীদের চোখের সামনে দিয়ে গাছ গুলো লক্ষীপুরবাজারে নিয়ে গেছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে যাওয়া নিয়ে এলাকায় ব্যপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।


সাধুহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম

এই বিষয়ে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দিন জানান, ঐ গাছ সরকারি হেফাজতে থাকতে হবে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নেবে সেটাই হবে।

খুলনা এর আরও খবর: