ঝুঁকিতে থাকা কাস্টমস ও স্থল বন্দর কর্মকর্তাদের প্রণোদনা নেই।

 প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   খুলনা



মনা বেনাপোল যশোর প্রতিনিধি:

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ¯’বিরতা দেখা দিলেও দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে দিন۔রাত কাজ করে যাচ্ছেন কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। লকডাউনের কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও পূর্বে আমদানি হয়ে আসা গার্মেন্টস শিল্প ও অন্যন্যা কারখানার কাঁচামাল এবং জরুরি প্রয়োজনে গামেন্টস, কেমিকেল, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট, শিশু খাদ্যসহ জরুরী পণ্য বেনাপোল বন্দর থেকে খালাশ দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বেনাপোলে কাস্টমস হাউস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।


সরকার গার্মেন্টস, শ্রমিক, ব্যাংকার, ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন সেক্টরে ঝুঁকি প্রণোদনা দিলেও কাষ্টমস হাউস, কাস্টমস ভ্যাট ও বন্দরকে প্রণোদনার আওতায় রাখা হয়নি। করোনার কারণে সরকার সাধারন ছুটি ঘোষনার পরপরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে সরকারের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কমচারিরা বেনাপোলে উপস্থিত থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে চলেছেন।


বিশেষ করে ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশী পাসপোর্টযাত্রীরা বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়েই ফিরে আসছেন দেশে প্রতিনিয়ত। ইমিগ্রেশন পুলিশের সাথে কাস্টমস কর্মকর্তারাও চেকপোষ্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের সেবা প্রদান করছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।


বেনাপোল কাস্টমস হাউস থেকে সরকার বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকেন। ভারতের সাথে বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। সাধারন ছুটির মধ্যেও বাংলাদেশের সকল কাস্টমস ও বন্দর খোলা রেখে বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য খালাশ দিচ্ছেন।


মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও বেনাপোল কাস্টমস চেকপোষ্ট, কাস্টমস হাউস, বন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব আহরনে মাঠ পর্যায়ে কাজে নিয়োজিত আছেন। বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাসের কারনে সকলকে ঘরে থাকার কথা বলা হলেও কাস্টমস কর্মকর্তাদের রাজস্ব আদায়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে বলা হচ্ছে। দেশের জন্য মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে রাজস্ব আদায় করে দিচ্ছেন অথচ তাদের কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা করেননি সরকার।


বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, সরকারী নির্দেশে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কাস্টমসকেও প্রণোদনা দেয়া উচিত। তাহলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও প্রত্যেকে কাজ করবে সার্বক্ষনিক। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার সাধারন ছুটি ঘোষনা করলেও আমরা বেনাপোল ছেড়ে যেতে পারছিনা। আমরা যারা বেনাপোলে আছি এদের বেশীর ভাগ পরিবারই অবস্থান করেন ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে। তারা কিভাবে থাকছে কি খাচ্ছে কোন সাবধানতা অবলম্বন করছে কিনা তাও জানিনা। ফোনে যতোটুকু খবর নেয়া যায় সেটুকু নিয়ে থাকি। আমরা পরিবার পরিজন ফেলে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ের কাজ করে যাচ্ছি অথচ আমাদের কোন প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই!


বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন তরফদার জানান, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তাদের অবশ্যই প্রণোদনা পাওয়া উচিত। তাহলে বন্দরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে আরো উৎসাহিত হবেন। সাধারন ছুটির মধ্যেও কাস্টমস ও বন্দর খোলা রেখে মালামাল খালাশ দেয়া হচ্ছে। সেজন্য অন্যান্য সংস্থাকে যেভাবে সরকার ঝুঁকি প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছেন সেভাবে কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকি প্রণোদনার ব্যবস্থা করবেন সরকার। আর এমনটিই আশা করছেন তারা।

খুলনা এর আরও খবর: