যশোরে নতুন করে দুই পুলিশ অফিসারের করোনাভাইরাস আক্রান্ত

 প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন   |   খুলনা


আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধান।।


যশোরে আজ নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের মধ্যে দুইজন পুলিশ অফিসার রযেছেন। আরো আছেন একজন ডাক্তার, একজন পত্রিকা ম্যানেজার।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার পাওয়া রিপোর্টে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে। এরা হলেন, কেশবপুর থানার এএসআই মো. তরিকুল ইসলাম (৪১) এবং ঝিকরগাছা থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম (৪১)।

গত ১৩ তারিখ ঘোষিত ফলাফলে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের দুই এসআই করোনা পজেটিভ বলা হয়েছিল। এর আগে বেনাপোলে কর্মরত আরেক পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সবমিলিয়ে এই জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পাঁচজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হলেন।

যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন আজ সন্ধ্যায় সুবর্ণভূমিকে জানান, তিনি আজ কেশবপুরের একজন পুলিশ সদস্যের করোনা আক্রান্তের কথা শুনেছেন। কিন্তু ঝিকরগাছার কোনো পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন কি-না জানেন না।

ঢাকায় অবস্থানরত পুলিশ সুপার জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা জেলা পুলিশের অন্তর্গত না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন বাহিনীর সদস্যদের হোমিও ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি ও মাল্টি ভিটামিন সরবরাহ করা হয়েছে। খাদ্যের বাজেটও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পুষ্টিকর ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। সরবরাহ করা হচ্ছে নানা ধরনের ফল। পুলিশ সদস্যদের আবাস ও কর্মস্থলে ছেটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। ফলে বড় ইউনিট হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত যশোর জেলা পুলিশে করোনা সংক্রমণ কম।'

এদিকে, আজ যবিপ্রবি থেকে আসা ফল অনুযায়ী মিনহাজুর রহমান (৫৯) নামে এক ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিরত। বসবাস করেন শহরের পোস্ট অফিসপাড়ায়।

আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে দৈনিক নওয়াপাড়া পত্রিকার ম্যানেজার বেলাল হোসেনের (৫২)।

অন্য যারা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন, শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী (৫০), বেনাপোল কলেজপাড়ার এক ব্যবসায়ী (৬০), একই এলাকার ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী, চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৮ বছর বয়সী এক নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মী, অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা ও আফিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক (৪৮), শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার বাসিন্দা যশোর জিলা স্কুল হেলথ সেন্টারের ফার্মাসিস্ট এক নারী (৪৮), যশোর শহরতলির বাহাদুরপুর এলাকার ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, কেশবপুরের বাসিন্দা ওরিয়ন ফার্মার এক কর্মী (৩৮) এবং একই উপজেলার ত্রিমোহিনী এলাকার এক গৃহিণী (২৭)।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, শনাক্ত ব্যক্তিদের নিজ নিজ বাড়িতে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়িগুলোও লকডাউন করেছে স্ব-স্ব এলাকার প্রশাসন।

খুলনা এর আরও খবর: