নিহতদের স্বজন ও মাদক ও অবৈধ অস্ত্র হত্যাসহ অপরাধ জগতের এমন কোন কাজ নাই তারা করেনি।
খুলনা ব্যুরো প্রধান : জিয়াউল ইসলাম :
খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামের তিন সহোদর জাকারিয়া-জাফরিন ও মিল্টন বাহিনী প্রতিপক্ষের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে গুলি করে তিনজনকে হত্যার পর এলাকাবাসী মুখ খুলতে শুরু করেছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বলছে জাকারিয়া-জাফরিন-মিল্টন তিন সহোদর বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। থানা পুলিশ, আটরা গিলাতলার চেয়ারম্যান এবং এলাকার মেম্বরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সুদের কারবার, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা, হত্যা, অন্যের সম্পদ লুট, যুবতী নারী ওপর অমানুষিক নির্যাতন, অন্যের গোয়ালের গরু-ছাগল তুলে আনাসহ এমন কোন অপকর্ম নাই তারা করেনি। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি পক্ষে থাকায় তাদের অত্যাচার আর নির্যাতনে গ্রামের কেহ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস পেত না। যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে মিথ্যা মামলা অথবা নির্যাতন চালান হয়েছে আবার কাউকে জীবন দিতে হয়েছে। এত অপরাধ করেও বীরদর্পে অপরাধ কার্যক্রম থেমে থাকিনি এদের। সর্বশেষ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস গ্রামের তিনজন নিরাপরাধ ব্যক্তিকে জীবন কেড়ে নিল এবং ৯জন শরীরে গুলির যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালে কার্তাচ্ছে। এদের মধ্যে আফছার(৬০) এবং খলিল (২২) এর অবস্থা আশংকাজনক। মশিয়ালী গ্রামে সাংবাদিক আর প্রশাসনের লোক দেখলেই নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী একটাই দাবী করছে যারা জীবন দিয়ে গেছে তাদের জীবনের বিনিময়ে এই গ্রামের মানুষের নিশ্চিন্তে শান্তিতে থাকতে জাকারিয়া-জাফরিন এবং মিল্টনকে ক্রসফায়ারের বিকল্প নাই। তারা বলছে এদের বিরুদ্ধে পুর্বেও হত্যা-মাদকসহ বিভিন্ন মামলা থাকলেও প্রশাসনকে ব্যবহার করে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করেগেছে।
গুলিতে নিহত গোলাম রসুলের স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমার এক বছরের মেয়ে তানজিলার জন্য ঔষধ আর স্যালাইন আনতে গিয়ে সে আর ফিরে আসেনি। আমার স্বামীকে তাদের অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে না পেরে বহুবার নির্যাতন করেছে। তিনি বলেন থানা পুলিশ, গ্রামের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম, মেম্বর বখতিয়ার তাদের পক্ষে থাকায় নির্যাতন শৈয্য করে কোন প্রতিবাদ করেনি। আমার তিনটি শিশু বাচ্চা তাদের বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়েগেছে তাতে আমার দু:খ নাই, আমি শুধু হত্যাকারী জাকারিয়া, জাফরিন এবং মিল্টনের লাশ দেখতে চাই। স্বামী হারার বেদনা আর শিশু সন্তানদের নিয়ে ভিক্ষা করে খাব তবু শান্তনা পাব গ্রামের মানুষ তাদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
নিহত নজরুলের স্বজন মুজিবরের স্ত্রী রোজিনা বেগম থানা পুলিশ এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানার ওসিকে বলেছিলাম আমার স্বামী মিলে কাজ করে আমরা অস্ত্র কি জিনিস তা চিনিনা স্যার আমার স্বামীকে ছেড়ে দেন। যাদের কথা মতো আমার স্বামীকে ধরেছেন তারা অস্ত্রের ব্যবসা করে আপনি জানেন তারা ষড়যন্ত্র করে অস্ত্র দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। ওসি আমার কথা না শুনে মনিরুল চেয়ারম্যান এবং জাকারিয়ার কথা শুনে আমাকে এবং আমার স্বামীকে থানায় নিয়ে গেল। রোজিনা বলেন সেখানে আমাদের উপর নির্যাতন যখন করা হচ্ছে তখন খবর আসছে গ্রামে জাকারিয়া এবং তার সহদর গুলি করে দুই জনকে মেরে ফেলেছে তবু আমাদের উপর নির্যাতন করে পুলিশ।
গুলিতে নিহত আটরা মেট্রো টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র সাইফুল ইসলামের স্বজন রেহেনা বেগম বলেন, সাইফুল ফুলতলায় তার বোনের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সে বাড়ী ফেরার পথে তার চোখে ও নাকে দুটি গুলি লাগে হাসপাতালে সে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। রেহেনা বেগম বলেন, তাদের অত্যাচারে গ্রামের মেয়েরা বাইরে বের হতে পারতনা। সুন্দরী মেয়ে বা বৌ ঝিরা তাদের নির্যাতনের স্বিকার হয়েছে যা নিজের লজ্জা আর সম্মান হারিয়ে লোকলজ্জার কারণে বলতে পারিনি। অনেক যুবতী মেয়ে তাদের নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে আবার অনেকে নিজেদের সম্মান আর ইজ্জতের ভয়ে গ্রাম থেকে অন্যত্র চলেগেছে। বাইরে থেকে যুবতীদের এনে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে অবৈধ কাজ করতো, সুযোগ করে না দিলে তাদের উপর নির্যাতন শুরু হতো। জাকারিয়াগং গ্রামের বিভিন্ন মানুষের গোয়াল থেকে গরু-ছাগল তুলে নিয়ে যেত প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি তার পক্ষে থাকায় গ্রামবাসী নিরবে শুধুই অত্যাচার সয্য করে গেছে। নিহতদের স্বজন ছাড়াও গ্রামবাসী তাদের অত্যাচারের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে খুলনার ভয়ংকর খুনি এরশাদ শিকদারের সাথে তুলনা করেন ।
খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের সহ-প্রচার সম্পাদক শেখ জাকারিয়া তার ভাই মহানগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি শেখ জাফরিন হাসান খানজাহান আলী থানার একটি হত্যা মামলার আসামী। ২০১৭ সালে মাত্তমডাঙ্গা(ডাক্তারবাড়ী) এলাকার মো. মতিন মল্লিকের ছেলে শফিকুল ইসলাম সাইফুল(২৫)কে জমিজমা সংক্রান্ত জেরে ঘর থেকে রেব করে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে (যাার মামলা নং ২ তাং ৩/৮/১৭)। ২০১৮ সালে ১১ জানুয়ারী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চা পাটি সহ মো. ইমরান আলীকে আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপার থানায় মামলা হয় যার নং ১৫, তাং ১১/১/১৮। মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ইমরান অস্ত্র গুলি জাকারিয়া রাখতে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। এছাড়া মিল্টন অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী সুত্রে জানাগেছে।
