মশিয়ালীতে থ্রি মাডারের মূলহোতা জাকারিয়া, জাফরিন ও মিল্টনের অন্ত্রগোলাবারুধের গুপ্ত স্থানের সন্ধান।
খুলনা ব্যুরো প্রধান জিয়াউল ইসলামঃ
খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামে মিল শ্রমিক নজরুল, কলেজ ছাত্র সাইফুল ও দিনমুজুর রসুল হত্যার গডফাদারদের অস্ত্র গোলাবারুদের গুপ্ত স্থানের সন্ধান পেয়েছে এলাকাবাসী। আন্ডারগ্রাউন্ড গুপ্তস্থান এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘাতকদের আলিশান ভবন দেখতে বিভিন্ন অঞ্চলের উৎসুক জনতা ভীড় করছে এখানে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র ৪ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি প্রশাসন।
খানজাহান আলী থানাধীন মশিয়ালী গ্রামের তিন সহোদর জাকারিয়া-জাফরিন ও মিল্টন বাহিনীর গুলিতে জুট মিলের শ্রমিক নজরুল ইসলাম, দিনমুজুর তিন শিশু সন্তানের জনক গোলাম রসুল এবং আটরা মেট্রো টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র সাইফুল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তদের বিলাশবহুল বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত মিল্টনের বাড়ীর নিজ তলার টয়লেটের পাশের একটি কক্ষের ওয়ালে বিশেষভাবে তৈরী গুপ্তস্থানের সন্ধান পেয়েছে এলাকাবাসী । এলাকাবাসী বলছে ওয়ালের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে তৈরী এই গুপ্তস্থান যা নজরে আসার মতো নয় সেখানে মিল্টন বাহিনীর অস্ত্র রাখা হতো। এছাড়া মিল্টনের বাড়ীর প্রধান ফটকের সামনেই একটি আধাপাকা পুরাতন কক্ষের মাটির নিচে (আন্ডারগ্রাউন্ড) বড় ড্রাম পুতে তৈরী করা অস্ত্র রাখার গুপ্তস্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে।
গ্রামের মোবারকের ছেলে ওলিয়ার ও সবুরের পুত্র জাহাঙ্গীর বলেন, অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী মিল্টন বাহিনীর অস্ত্র মজুত রাখার জন্য মিল্টনের বাড়ীর গোপন একটি কক্ষের ওয়ালে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা স্থানের সন্ধান পাওয়াগেছে। যেখানে অস্ত্র রাখলে খুজে বের করা অসম্ভব। হত্যাকান্ডের পর এলাকাবাসী ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দিলে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর এই গুপ্তস্থানের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বলেন মিল্টনের বাড়ীর প্রধান ফটকের ঠিক সামনে আরিফের কাছ থেকে নেয়া একটি আধাপাকা ঘরের মধ্যে সন্ধান পাওয়া গেছে অস্ত্র গোলাবারুদ রাখার আন্ডারগ্রাউন্ড গুপ্তস্থানের। ঐ ঘরের আশপাশে কেউ যেতে পারত না। মিল্টন ও তার সহোদর ছাড়া এলাকার আদিলের পুত্র ভ্যানচালক আজিমের যাতায়াত ছিল ঘরটিতে। হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার পর এলাকাবাসী ঘরটিতে আগুন দিলে বেরিয়ে পড়ে মাটির নিচে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা অস্ত্র-গোলাবারুদ রাখার গুপ্তস্থানটি। তিনি বলেন মাটির নিচে প্লাস্টিকের বড় ড্রাম পুতে তার উপর মাটি দিয়ে ভরাট করে অস্ত্র গোলাবারুদ রাখার মতো ছোট্ট একটি মুখ রাখা হয়। মুখটি সিমেন্ট-বালু দ্বারা ঢালাই করা একটি ঢাকনা দিয়ে ঢাকা ছিল গুপ্তস্থানটি যে কেউ দেখলে বুঝতে পারবে এখানে গোলাবারুদ ছাড়া কিছু রাখা সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার সন্ধায় হামলার দিন এখান থেকে অস্ত্র নিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বোমা নিক্ষেপ করা হয় । গ্রামবাসী বলেন সম্প্রতি থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কয়েকজন অস্ত্রধারী যারা প্রত্যেকের স্বীকারোক্তিতে তাদের নাম উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার মশিয়ালী গ্রামের জাকারিয়া-জাফরিন ও মিল্টন বাহিনরী গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এলাকাবাসী মুখ খুলতে শুরু করে। একের পর এক বেরিয়ে আসছে তাদের বিভিন্ন অপকর্মের কাহিনী ।
