দৌলতপুরে মসজিদের ইমামতি নিয়ে সংঘর্ষ-মামলা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মসজিদের ইমাম পরিবর্তন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের হৃদয়পুর হাজিপাড়া জামে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ পড়ানোর জন্য নির্ধারিত ইমাম পরিবর্তন করাকে কেন্দ্র এই সংঘর্ষ বাধে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, কিছুদিন আগে উপজেলার হৃদয়পুর হাজিপাড়া জামে মসজিদের ইমাম জুবায়ের আহম্মেদকে (৪৫) বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য মসজিদে রাখা না রাখা নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ওই গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে সোহেল, শারিফসহ কয়েকজন ইমাম জুবায়েরকে মসজিদে রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে একই গ্রামের মিজান উদ্দিন, ইমদাদ, লিপটন, নাসির উদ্দিন, ওহিব উদ্দিন চুনু, জিয়ারত আলীসহ সেখানকার অধিকাংশ মানুষ ওই ইমামকে মসজিদে না রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।
এ নিয়ে গ্রামের লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না হওয়ায় গত ১ জুলাই ২০২০ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.শরীফ উদ্দিন রিমন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ছয় মাসের অগ্রিম বেতন দিয়ে ইমাম জুবায়ের আহম্মেদকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
এরপর গত ৩১ জুলাই জুম্মার নামাজ শেষে ঈদের দুটি জামাত করা নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইমাম জুবায়ের ও সোহেল নিজেদের পক্ষের লোকজন নিয়ে মসজিদের ভেতরে আকস্মিকভাবে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করেন। তারা অগ্রহণযোগ্য কথাবার্তা বলে ইমাম জুবায়েরকে দিয়েই ঈদের নামাজ পড়ানোর ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এক পর্যায়ে অন্যান্য লোকজন মসজিদ থেকে চলে যান।
এর ধারাবাহিকতায় ওইদিন দুপুরে সোহেল ও তার লোকজন বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ ওহিব উদ্দিন চুনুর বসতবাড়ির সামনে অবস্থান নেন। ওই সময় সোহেল তাকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইমাম জুবায়েরকে দিয়ে ঈদের নামাজ পড়ানো হবে বলে আবারো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ওহিব উদ্দিন চুনুর নাতি শিশু তানজিনসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের তাৎক্ষণিক দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার (২ জুলাই) সোহেলকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নামে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২, তারিখ ২-০৮-২০২০।
দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান জানান, ঈদের নামাজে মসজিদের ইমামকে পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে
