যশোরের কেশবপুর উপজেলায় মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়েছে
আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধান।
যশোর জেলার কেশবপুরে কেউ মাথা ন্যাড়া (টাক) করলে সাধারণত এই ধরনের একটি প্রবাদ গ্রাম গঞ্জে তাকে শুনতে হয়। এছাড়াও সুন্দর করে ন্যাড়া মাথায় অনেকেই হাতও বুলিয়ে দেয়। তবে এই ধরনের প্রবাদ কিংবা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই বর্তমানে অনেকেরই মাথা ন্যাড়া করতে দেখা গেছে। একপ্রকার মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়েছে। কারণ এর আগে এ উপজেলাতে এত পরিমাণ মাথা ন্যাড়া করতে কাউকে দেখা যায়নি। দলগত বা একা ছবি বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও শেয়ার করতে দেখা গেছে। সেখানে বন্ধু তালিকায় থাকা অনেকেই মজার মজার কমেন্ট করছেন।
কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সকল বয়সের পুরুষেরা প্রতিটা এলাকায় কমবেশি মাথা ন্যাড়া করেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রয়োজন ব্যাতীত ঘর থেকে বাইরে যেতে মানা। তাইতো তেমন বাজার-ঘাটে কিংবা বাইরে কেউ বের হচ্ছেনা কেউ। এছাড়া সেলুন ও পার্লার মালিকগণ অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান। এদিকে চৈত্রের তাপে পড়ছে প্রচন্ড গরম। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মূলত গৃহবন্দী লম্বা চুল ওয়ালা মানুষ গুলো তাই সাচ্ছন্দেই মাথা ন্যাড়া করছেন- এমনটিই যারা মাথা ন্যাড়া করেছে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
দলগতভাবে উপজেলার শিকারপুর গ্রামের ১২ জন, কলেজ পাড়ার ৫ জন, মঙ্গলকোট গ্রামের গাজীপাড়ার শিশু, কিশোর ও যুবক বয়সের ২৭ জন একইদিনে মাথা ন্যাড়া করেছেন। এদের মধ্যে লিটন নামে এক ব্যক্তি ঢাকার উত্তরাতে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতেন। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়িতে এসে মাথা ন্যাড়া করেছেন। এছাড়া তাদের মধ্য থেকে ওয়াদুদ, সাগর ও জাহিদ এর সাথে কথা হলে তারা জানায়, “করোনার জন্য আপাতত কলেজ ছুটি তাই মাথা ন্যাড়া করে সুন্নত আদায় করলাম”।
মাথা ন্যাড়া করা কেশবপুর শহরের ব্যবসায়ী আল ইমরান জেদ্দার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই গরমে ঠিকঠাক মত সময় পাইলাম। তাছাড়া মাথার চুলও পেকে যাচ্ছে, অনেকেই বললো ন্যাড়া করলে নাকি পাকা চুল কম হয়। এই সব মিলিয়েই ন্যাড়া করা আর কি।
মধ্যকুল গ্রামের ছিয়াশি বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস এ সপ্তাহে মাথা ন্যাড়া করেছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাজারে সেলুনের দোকান বন্ধ থাকায় চুল কাটাতে পারছি না। তাইতো বাড়িতেই অন্যের সহযোগীতা নিয়ে মাথা ন্যাড়া করেছি।
