কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ত্রাণ দেওয়ার সময় ক্যামেরার দিকে না তাকানোয় হত-দরিদ্রের চড়-থাপ্পড় দেন চেয়ারম্যান
নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরিদ্র দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার সময় ক্যামেরার দিকে না তাকানোর জন্য ত্রাণ গ্রহণকারী দরিদ্র নারী-পুরুষদের চড়-থাপ্পড় দিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহি।
শুক্রবার ১০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের দরিদ্র, দিনমজুর, অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার সময় মোবাইলে ছবি ধারণ করা হয়।
জানা যায়, ত্রাণ দেওয়ার ছবি ধারণ করার সময় মোবাইলের দিকে তাকাতে বলে ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহি। কেউ না তাকালে তাকে চড় ও থাপ্পড় মেরে মোবাইলের দিকে তাকাতে বাধ্য করা হয়। এসময় চেয়ারম্যানের চড়-থাপ্পড় খেয়ে অনেকের মুখের মাস্ক মুখ থেকে পড়ে যেতেও দেখা যায়।
আবার ক্যামেরার দিকে না তাকানোর জন্য নারী ত্রাণ গ্রহীতাদের শাড়ীর আঁচল ধরেও টানতে দেখা যায়। বোয়ালিয়া ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহির এমন কর্মকান্ডের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এনিয়ে প্রশাসনসহ সর্ব মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়।
এবিষয়ে বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহি বলেন, কে বা কারা ত্রাণ বিতরণ করার সময় আমার ছবি তুলেছে। তবে এমন ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের এমন কর্মকান্ড ঘটানোর বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানিয়েছি। ডিসি স্যার ডিডিএলজি স্যারকে তদন্ত দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতি ইউনিয়নের সরকারীভাবে ৪৫০ জন দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছলদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার সিদ্ধান্ত হলে সেই ত্রাণ সামগ্রী শুক্রবার বিতরণ করার সময় বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস মহি ত্রাণ গ্রহীতাদের চড়-থাপ্প্ড় মেরে লাঞ্ছিত করেন।
