যশোরে সদর লেবুতলা ইউনিয়নে লকডাউনে ১৫ দিন অতিক্রম হলেও কোন সহযোগিতা পায়নি এই পরিবার,

 প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০৯:৪২ অপরাহ্ন   |   খুলনা


আব্দুল জব্বার, যশোর ব্যুরো প্রধান।।

যশোরের সদর উপজেলার ২নং লেবুতলা ইউনিয়নের, ২নং ওয়ার্ডের লেবুতলা গ্রামের একটি পরিবারকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহ করে এলাকাবাসীকে রক্ষার জন্য লকডাউন করা হয়েছে।গত ৩০ শে মার্চ লকডাউনের ১৫ দিন অতিক্রম হলেও লকডাউন করা পরিবারটি সরকারি কোন ত্রাণ বা সহযোগিতা এখনও পর্যন্ত পাইনি।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রী অসিত মন্ডল এর দুই ছেলে ঢাকা নবীনগর জামগড়া এলাকায় একটি সোনার দোকানে কাজ করে,সম্প্রীতি করোনা ভাইরাসের কারণে দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলে তার দুই ছেলে বাড়িতে ফিরে আসে গত ২৯ শে মার্চ। 

বাড়িতে আসার পর ২নং লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ লুৎফর রহমান তাদের বাড়িতে লাল পতাকা দিয়ে লকডাউন করে দেয়। গ্রাম পুলিশ লুৎফর রহমান বাড়িটি লকডাউন করে তাদের পরিবারের সকল সদস্যকে বাড়ির বাহিরে বের হতে নিষেধ করে আসেন। পরিবারের কোন সদস্য পাশের বাড়িতেও  যাবে না এই মর্মে নির্দেশ প্রদান করে আসেন।

এ বিষয়ে লেবুতলা ইউনিয়নের রমেশ ঘোষ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানালে সাংবাদিকরা সরেজমিনে অসিত মন্ডলের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পর জানতে পারে যে লকডাউনে আছি,কিন্তু আর কেউ কোন দিন কোন খোজ খবর নেয়নি।কোন প্রকার খাদ্য খাবার আমরা পাইনি।বর্তমানে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।

এদিকে লকডাউন করার কারণে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসিত মন্ডল ঘর থেকে বাহির হতে না পারায় পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। স্থানীয় লোক সূত্রে জানা যায়, পল্লাদ দত্ত নামে একজন


ব্যক্তি এলাকাতে কিছু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে স্থানীয় গরিব মানুষকে সহযোগিতা করেছেন। তারই সহযোগিতার খাদ্য সামগ্রী হতে লকডাউনের  ১৫ দিনের মধ্যে অসিত মন্ডল ৫ কেজি চাল পান।

এদিকে লকডাউন সম্বন্ধে লেবুতলা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার পর বাড়ি থেকে লকডাউন করে লাল পতাকা  উত্তোলন করে দিয়ে আসি। তারপরে লকডাউনের  কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অসিত মন্ডল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে আসছে আমার দুই ছেলে সমস্যা থাকলে তাদের থাকতে পারে ,আমার তো কোন সমস্যা নাই আমাকে কেন লক ডাউন করে রাখা হল। লকডাউন করে  রাখার পরে আমাদেরকে কেন খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হলো না।

এ বিষয়ে অসিত মন্ডল এর স্ত্রী বিথী মন্ডল  বলেন, লকডাউনের কারণে আমার ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আবেদন আমাদের মত আর কাউকে যেন এভাবে লকডাউন করে না খেয়ে কষ্ট পেতে না হয়।

লেবুতলা ইউনিয়নের ২নং  ওয়ার্ডের প্রাক্তন মেম্বার বলেন বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে গত ৩০ তারিখে কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি সহযোগিতা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। তারা খুব কষ্টের ভিতর দিয়ে দিন কাটিয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী  অফিসার কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অসিত মন্ডলের  পরিবারের বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে কোনো পরিবারকে লকডাউন করা হলে অবশ্যই সরকারিভাবে তাদেরকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে হবে। কেন তারা খাদ্যসামগ্রী পায়নি এ বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি এখনই বিষয়টি সম্বন্ধে খোঁজখবর নিচ্ছি।

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী ক্যাম্পের টু ,আইসি, আমিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে শুনেছি। কিন্তু সরকারিভাবে খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়েছে কিনা তার সম্বন্ধে আমরা অবগত নই। লকডাউন করে গরীব পরিবারের নিকট আর কোন খোজ খবর না নেওয়া,তাদের কে খাদ্য না দেওয়া,এটা রিতিমত ভাল দেখায় না,তা পার্শ্ববর্তী মানবাধিকার কর্মী হিসাবে উর্ধ্বতন  কতৃপক্ষের নিকট দাবী, পরিবারটির জন্য অবশ্যই খোজ নিয়ে খাদ্য পাইবার ব্যবস্থা করবেন বলে দাবি রইল।

খুলনা এর আরও খবর: