ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় কর্মহীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্বিষহ জীবন।
আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধান।।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় করোনা ভাইরাসের কারণে, ঘরবন্দির ফলে সবচেয়ে বিপাকে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও কর্মহীন ক্ষুদ্রব্যবসায়ীরা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব ঘরবন্দি মানুষ সাহায্যের আবেদন করেও কিছু পাচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে তারা চাইতেও পারছে না লোকলজ্জ্বার ভয়ে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় তারা কিছু করতে পারছে না, বলে জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন। এদিকে স্বজনপ্রীতি ও নিজ লোকের তালিকা করবার, অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়রা। সবমিলিয়ে হাত পেতে নিতে না পারা পরিবার কর্তাদের অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঁকড়া বাজারের কলেজ রোডের চা বিক্রেতা মতিয়ার রহমান, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর প্রত্যেকদিন ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করে বাজারসহ নিত্য খরচ করে তার ভাল দিন চলত। কিন্তু গত ২৬ মার্চ থেকে তার দোকান বন্ধ। একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে মাত্র কয়েক মাসপূর্বে বিদেশ পাঠিয়েছে। সেখানেও করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্ধি আছে। বাজারের প্যাকেট হাতে ঘুরতে দেখামাত্র তার চোখে জল। মানুষটি বাজার করতে পারেনি প্রায় এক সপ্তাহ। অসহায়ত্বের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারছে না। এমনই অসহায় চা বিক্রেতা গোলাম রহমান, আব্দুল করিম বাচা, আব্বাস আলী, আব্দুল আজিজ, কর্মকার (কামার) আব্দুস সামাদ, গোবিন্দ কর্মকার সহ বাঁকড়া বাজার ও এলাকার গ্রাম গঞ্জের প্রায় ৩শ ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীর একই অবস্থা।
সংকটের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে এলাকার দুঃস্ত অসহায়দের মাঝে কমবেশি সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এ সাহায্য পাচ্ছে বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধিদের কাছের ও ধর্ণাধরা অসহায় অস্বচ্ছল মানুষ। আবার প্রকারভেদে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে এ তালিকায়।
এ দিকে নিম্নশ্রেণির মানুষ কমবেশি সাহায্য পেলেও বিপাকে পড়েছে, মধ্যবৃত্ত ও কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তারা মুখে কিছুই বলতে পারছে না। এ শ্রেণির মানুষ কারও কাছে ধর্ণা দিতে নারাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক জানান, বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে নিরপেক্ষভাবে এদের তালিকা করে বাড়ি বাড়ি যদি খাদ্যসামগ্রী দেওয়া যেত, তাহলে নির্বাক আর্তনাদ কিছুটা কম হতো।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিজ উদ্যেগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ নিয়েও নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি ভাবে দেওয়া খাদ্য সামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের লোকদের দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাঁকড়া ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যার মেম্বর, চেয়ারম্যান, ক্ষমতাধর প্রভাবশালীদের সাথে সক্ষ্যতা ভাল তাদের অবস্থা ভাল হলেও তারা সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছে।
বাঁকড়া গ্রামের ইউপি সদস্য রমজান আলী সকল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় নাম মাত্র সাহায্য পেয়েছি। সেটা বিতরণ করেছি। স্বজনপ্রীতির কথা তিনি অস্বীকার করে প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান।
