একজন স্বপ্নজয়ী কর্মবীরের আখ্যান: আলী আজম সাহেব ও এ্যাডেক্স গ্রুপের অগ্রযাত্রা
তথ্য সংগ্রহ, লেখক কাজী আবু বকর
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামের ধূলিমাখা পথঘাট থেকে উঠে আসা একজন মানুষ যখন অদম্য মেধা ও দূরদর্শিতায় ভাস্বর হয়ে ওঠেন, তখন তিনি কেবল নিজের সাফল্যই রচনা করেন না, হয়ে ওঠেন সমগ্র বাংলাদেশের শিল্পায়নের এক অনন্য বাতিঘর। তিনি আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় এ্যাডেক্স গ্রুপের সুযোগ্য চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার আলী আজম সাহেব।
শৈশব থেকে শিল্পপতির পথে:
গোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম মৌলভী আব্দুল হাই সাহেবের সন্তান হিসেবে তার বেড়ে ওঠা। পিতা ছিলেন গোবিন্দপুর প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, যার কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা ও মূল্যবোধই আলী আজম সাহেবের জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর। ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ এবং বুয়েট থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি কেবল ইঞ্জিনিয়ারই হননি, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশের প্রতি তার অকুতোভয় দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখেছেন।
এ্যাডেক্স গ্রুপ: একটি স্বপ্নের মহীরুহ:
ছোট্ট পরিসরে শুরু করা ব্যবসা আজ তার অদম্য নেতৃত্বে রূপান্তরিত হয়েছে বিশাল 'এ্যাডেক্স গ্রুপ'-এ। গাজীপুরে অবস্থিত এ্যাডেক্স গ্রুপের বিশাল কর্মযজ্ঞ আজ দেশ ও দেশের বাইরে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের এক আস্থার নাম। ৪৩ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মীবাহিনীর এক বিশাল দল। গাজীপুরে অবস্থিত ছয়টি অত্যাধুনিক কারখানা এবং উন্নত আরএন্ডডি (R&D) টিমের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের শিল্পখাতকে নিয়ে গেছেন বিশ্বমানের উচ্চতায়।
জাতীয় অবকাঠামোয় অবদান:
আলী আজম সাহেবের নেতৃত্বাধীন এ্যাডেক্স গ্রুপ আজ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বাংলাদেশে বিশ্বমানের ট্রান্সফর্মার উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন থেকে শুরু করে দেশের গর্ব 'পদ্মা সেতু'—এমন অসংখ্য মেগাপ্রকল্পে এ্যাডেক্স গ্রুপের অবদান এবং তাদের অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধানের স্বাক্ষর আজ দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে বিদ্যমান।
মানবতা ও সমাজসেবায় অবদান:
একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি আলী আজম সাহেব কখনো নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি। পিতার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেছেন 'মৌলভী আব্দুল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ', যা হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য আলোর বাতিঘর। এছাড়াও সামাজিক সংহতি ও তারুণ্যের বিকাশে তার প্রতিষ্ঠিত 'বাংলা ক্লাব' অত্র অঞ্চলের মানুষের কাছে এক আস্থার প্রতীক।
উপসংহার:
আলী আজম সাহেব কেবল একজন শিল্পপতি নন, তিনি একজন দেশপ্রেমিক, একজন শিক্ষাানুরাগী এবং একজন দূরদর্শী নেতা। গোবিন্দপুরের মাটি থেকে উঠে এসে আজ তিনি গোটা বাংলাদেশের শিল্প খাতে যে অবদান রাখছেন, তা আমাদের সবার জন্য গর্বের। সফলতার এই চূড়ায় দাঁড়িয়েও তার নিরহংকার ও মানবসেবার মানসিকতা আমাদের সবার জন্য শিক্ষণীয়।
একজন সফল মানুষের সার্থকতা তার জমানো সম্পদে নয়, বরং তার প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবামূলক কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকায়—আলী আজম সাহেব তার কর্মময় জীবনের মাধ্যমে সেই অমোঘ সত্যটিই বারবার প্রমাণ করে চলেছেন। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
