কেসিসি ১নং ওয়ার্ডের ক্যাথলিকপাড়া সিডিসি’র অনিয়ম দূর্নীতির পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন।

 প্রকাশ: ১১ জুন ২০২০, ১১:৩৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


খুলনা ব্যুরো প্রধান জিয়াউল ইসলামঃ

করোনার কর্মঝুকিতে পড়া অসহায় দরিদ্র সদস্যদের আর্থিক অনুদানের ১৫শ টাকা নিতে গুনতে হয়েছে ৫শ থেকে ৮শ টাকা পর্যন্ত

তদন্ত কমিটির কাছে দূর্নীতি ও অনিয়মের কথা প্রকাশ করায় সদস্যদের বাসায় বাসায় গিয়ে হুমকির অভিযোগ।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবণমান উন্নয়ন প্রকল্পের সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের মহেশ্বরপাশা  ক্যাথলিকপাড়া এলাকার দায়িত্বে থাকা নেত্রী(এসিএনএফ) পাপড়ী রায়ের বিরুদ্ধে সিডিসি’র অসহায় দরিদ্র সদস্যদের অনুদানের নগদ অর্থ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা এবং তালিকা তৈরীতে ব্যপোক দূনীতি ও অনিয়মের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। পাঁচ সদস্যের কমিটি সিডিসির সদস্যদের পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে। তদন্ত কমিটি সাথে সাক্ষাতে অনুদানের ১৫শ টাকা নিতে সদস্যদের ৫শত টাকা থেকে ৮শত টাকা পর্যন্ত দিতে বার্ধ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয়ের অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

খুলনা মহানগরীতে আবস্থানরত প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পের আওতায় করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায়  কর্মঝুকিতে পড়া  সিডিসি’র সদস্যদের মাঝে সম্প্রতি বিকাশের রকেটের মাধ্যমে নগদ ১৫শ করে টাকা প্রদান করা হয়। তালিকায় মৃত ব্যক্তি, সিটির বাইরে থাকা অন্য জেলা ও বিভাগের. ইউনিয়নে বসবাসরত ব্যক্তিদের নামে টাকা তোলা, দলনেত্রী পাপড়ী রায়ের মা সহ দশ জন নিকট আত্মিয়ের নাম থাকায় এবং অনুদান প্রাপ্ত প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গত ৪জুন  পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয় বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানাগেছে। সম্প্রতি কমিটির সদস্যরা ১নং ওয়ার্ডের মহেশ^রপাশা ক্যাথলিকপাড়া এলাকায় সরেজমিনে এসে সিডিসি’র সদস্যদের সাথে পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকার গ্রহন করে। তদন্ত কমিটি ও সাক্ষাৎকার প্রদান করা সিডিসি’র সদস্যদের সাথে কথা বলে সিডিসির অধিকাংশ সদস্য দলনেত্রী পাপড়ী রায়ের বিরুদ্ধে সদস্যদেরকে কাছে থেকে অনুদানের অর্থ জোরপূর্বক দিতে বাধ্য করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। এ বিষয় তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষাৎপ্রদানকারী লতা বিশ^াস বলেন কমিটির সদস্যরা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে আমরা কেন পাপড়ীকে টাকা দিয়েছি। আমরা বলেছি রকেট একাউন্ট খুলতে আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ২শ থেকে ৩শ এবং বিভিন্ন খরচের অযুহাতে ২শ থেকে ৫শত টাকা করে নিয়েছে যা আমরা দিতে বার্ধ্য হয়েছি। রুমি বেগম বলেন আমাদের দলে যে বিশ জন সদস্য আছে প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য রকেট একাউন্ট খুলতে ২শ-৩শ করে টাকা  এবং রিমা, সালমা, সনি সহ অনেকে ৫শত টাকা করে নেওয়া হয়েছে বিষয়টি আমি তদন্ত কমিটিকে অবহিত করেছি। তিনি বলেন টাকা দিতে না চাইলে এবং বিষয়টি কাউকে বললে পরবর্তিতে তাদেরকে আর কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার হবে না বলে পাপড়ী হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমরা টাকা দিয়েছি। রুমি বেগম আরো বলেন তদন্ত কমিটির কাছে এ সব কথা বলায় পাপড়ী রায় পরের দিন তাদের প্রত্যেকের বাসায় বাসায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি প্রদান করে। হাজেরা বেগম বলেন একাউন্ট খুলতে ২শ টাকা এবং ১৫শত টাকা তোলার পর ৫শ টাকা পাপড়ীকে দিতে হয়েছে। কমিটিকে সাক্ষাৎপ্রদানকারী বর্ননা ফলিয়া বলেন, আমরা টাকা দেওয়ার কথা তদন্ত কমিটিকে বলায় পাপড়ী রায় বাসায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। পাপড়ী রায় কর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে বলেন তার সাথে উর্ধতন কর্মকর্তাদের যোগাযোগ আছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কেহ কিছু করতে পারবে না বরং নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছো। এছাড়াও নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক সিডিসির সদস্য পাপড়ী রায়ের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির টাকা উত্তোলন, সঞ্চয়ের বই নাই এবং সঞ্চয়ের টাকা তুলে নিয়েছে এমন ব্যক্তিদের টাকা দিয়ে তাদের কাছে থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এদিকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গত ৯জুন মঙ্গলবার সকালে কেসিসি ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে অভিযুক্ত পাপড়ী রায়ের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য কমল ব্যানার্জী তদন্ত কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে বলেন কমিটির পাঁচ সদস্য সরেজমিনে গিয়ে সিডিসির সদস্যদের সাথে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করেছি এর বেশি আমি আপনাকে কিছু বলতে পারিনা। তিনি বিষয়টি নিয়ে কিছু জানতে হলে টাউন ম্যানেজারের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।এ বিষয়ে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির(সিডিসি)টাউন ম্যানেজার(টিএম) মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, করোনা মধ্যে একাউন্ট খোলা হচ্ছেনা আর যাদের খোলা আছে তাদের একাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে তবে যাদের একাউন্ট খোলা নাই একাউন্ট খুলতে তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়ার কথা না। তবে কেহ যদি নিয়মবর্হিভুত কোন কাজ করে কেহ যদি অনিয়ম করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ কোন ছাড় দিবেনা। টাকা নেওয়া সহ ক্যাথলিকপাড়া অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন তদন্ত রির্পোট পুর্ণাঙ্গ ভাবে আসছে কাজ চলছে। রির্পোট পেলে আমরা কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিবোনা। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা করোনার সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কোন অনিময়-দূনীতি বরদাস্থ করা হবে না আমরা প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী কোন অনিয়ম-দূনীতির বিন্দু পরিমাণ ছাড় দিবো না। কেসিসি ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আব্দুর রাজ্জাকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ আসে আমি অভিযোগকারীদের সাথে কথা বলে আমার মনে হয়েছে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন আমি অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফরোডিং করে দিয়েছি। যতদূর জানি এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ছে তাদের কার্যক্রম চলছে।

জাতীয় এর আরও খবর: