লক্ষ্মীপুরে উদ্ধার করা হলো পটুয়াখালী থেকে হারিয়ে যাওয়া ২০ টি মহিষ, আটক ২।

 প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২০, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃশরিফ হোসেনঃ



'শখের মহিষ। মায়া হয়ে গেছে। মহিষগুলো আমাকে দেখে ভ্যা-ভ্যা করে ডাকে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ওদের দু’চার গ্রাম দুরে রেখে ছেড়ে দিলেও যতই বড় নদী হোক সাঁতরে খোয়াড়ে চলে আসে।’ এভাবেই বলছিলেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি ২০টি মহিষ চুরি হয় কৃষক রুফিকুল ইসলামের।


লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরী হাট কোষ্ট গার্ড অফিসের নদীর পাড় এলাকায় থেকে গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এস আই নুর নবী ২০টি মহিষ উদ্ধার করে। এসময় দুই মহিষ চোরকে আটক করা হয়। আটকৃতরা হলেন পটুয়াখালীর সরোয়ার, আনিস আকন তার বাড়ি বরগুনার জেলার পূর্ব সিলা হলুদিয়ার এলাকার।


কৃষক রফিকুল ইসলাম জানায়,গত ১১ জুন সকাল ৬টার দিকে ৩৭টি মহিষ পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থানার কাউখালীর চরে বন বিভাগ কেওরা বাগানে মধ্যে ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে রাখি ব্যক্তিগত কাজে রাঙ্গাবালী বাহেরচর বাজার আসি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এসে দেখি আমার ৩৭টি মহিষের মধ্যে ২০টি মহিষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজা খুঁজির পর নিরুপায় হয়ে গত ১২ জুন শুক্রবার রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করি যাহার ডাইরী নং৩৭৯।


পরে গোপন খবরে জানতে পারি লক্ষ্মীপুর মজুচৌধূর হাট প্রথম লগগেটের মসজিদের পাশে রাতে ১১টার দিকে  চোর চক্র মহিষগুলো ট্রলারে করে নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় শহিদ উল্ল্যা ও নির্মাণ শ্রমিক লীগের লক্ষ্মীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজের নেতৃত্বে ট্রান্সর্পোট করার সময় মহিষগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মাহফুজ ও শহীদ উল্যাহ পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে দুই চোরকে পুলিশ আটক করে,কারগারে প্রেরণ করেন।


এ বিষয়ে মহিষের মালিক মো. রফিকুল ইসলামের দাবী, এলাকায় এ যাবৎ যত কৃষকের গরু-মহিষ চুরি হয়েছে তা এ চোরচক্র করেছে। এরা ট্রলারে বালি সাপ্লাই দিয়ে রাতে কৃষকের গরু-মহিষ চুরি করে নেয়। এসব চোর চক্রের সদস্যরা স্থানীয় এবং এদের নেটওর্য়াক ঢাকা পর্যন্ত রয়েছে। উল্লেখিত আসামীদের রিমান্ডে নেয়া হলে গরু-মহিষ চুরির আরো ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


এ বিষয়ে চোর চক্রের শহীদ উল্ল্যাহর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


সেন্ডিকেট মাহফুজের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় থেকে যত গরু মহিষ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে যায় সব আমার ট্রান্সপোটের মাধ্যমে মালবাহী কাচামালবাহী বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলাতে যায়। প্রতি ট্রাক প্রতি এক হাজার টাকার চালান দেয়া হয়। মহিষ চুরির ঘটনার সাথে আমার কোনো সর্ম্পক নেই। আমার ট্রান্সর্পোট থেকে যে আয় হয় ঐ টাকা দিয়ে আমার সংসার চলে।


মহিষ উদ্ধারের বিষয়ে চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছেয়াল বুধবার দেশ খবরকে জানায়, গরু,মহিষ বৈধ-অবৈধ ঐ লকঘাটের স্কুলের সামনে দিয়ে মাহফুজ ও শহিদ উল্ল্যাহ সহ নেতৃত্বে গরু মহিষ চালান করা হয়। মহিষের মালিক এমন অভিযোগ করেন। মাহফুজ প্রতি চালান থেকে যে এক হাজার টাকা প্রতি ট্রাক থেকে নেয় তার কোনো বৈধতা নেই।

জাতীয় এর আরও খবর: