পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে চায়ের দোকানসহ মোড়ে মোড়ে আড্ডা।
খুলনা ব্যুরো প্রধান জিয়াউল ইসলামঃ
খুলনায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক করোনাভাইরাস । প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার মানুষের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও তাদের চোখ ফাকি দিয়ে ফুলবাড়ীগেট ও শিরোমণি বাজারে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। পাশ্ববর্তি চায়ের দোকান এবং মোড়ে মোড়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দিতে দেখাগেছে। শিরোমণি ও ফুলবাড়ীগেট বাজারে গিয়ে দেখাগেছে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি সামাজিক দূরাত্বের কোন নিয়ম নীতি মানা হচ্ছেনা। থানা পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও বাজার গুলোতে হরহামেশা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
করোনা ভাইরাস সংক্রামণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনায় দোকানপাট, যানবাহন, ও চলাচলের ওপর বিধি নিষেধ জারি করা হয়। সরকারি এ বিধি নিষেধের কোন তোয়াক্কা না করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করে চলেছে প্রায় সকলেই। বিধি নিষেধ অনুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচাবাজার, মৌসুমী ফলের দোকান ও ফার্মেসি ব্যতীত অন্যান্য দোকানপাট, শপিংমল ও ফুটপাতের দোকান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ফুটপাতের অনেক দোকান এবং কিছু কিছু দোকনপাট পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে খুলতে দেখাগেছে। মোড়ে মোড়ে এবং চায়ের দোকান আড্ডা দেওয়া বন্ধ হয়নি এখনও। দেখলে মনে হবেনা সাধারণ মানুষের চলাফেরায় সরকারি ভাবে কোন বিধি নিশেষ আরোপ করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ফুলবাড়ীগ্টে এবং শিরোমণি বাজার ঘুরে দেখাগেছে বাজারের অলি গলিতে সামাজিক দূরাত্বের কোন বালাই নাই। মানুষের ভীড়ে গাদাগাদী করে তাদের প্রয়োজন মিটাচ্ছে এদের অনেকের আবার মাস্ক পরা নাই। থানা পুলিশের টহল গাড়ীতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং ফুলবাড়ীগেট বাজারে কয়েকটি মাইক দিয়ে সার্বক্ষনিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি সরকারি নির্দেশনা মানতে ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে। খানজাহান আলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং ফুলবাড়ীগেট বাজার বনিক সমিতির সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী প্রতিদিন সকালে-দুপুর এবং বিকালে মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা এবং দেশ-বিদেশের করোনা সংক্রামণ সম্পর্কে বিভিন্ন ঘোষনা দিতে দেখাগেছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও জনগণ সচেতন নয় তারা হরহামেশায় মানছেনা সামাজিক দূরাত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, যেখানে সেখানে থুথু না ফেলা, হাসি-কাশি না দেওয়া। ফুলবাড়ীগ্টে বাজারে স্থায়ী মাইকিংসহ বেশ কিছু প্রচার ব্যানার, বাজার বনিক সমিতির বাজার মনিটরিং এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও মানছেনা সামাজিক দূরাত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যাবহার করা। শিরোমণি বাজারের অবস্থা আরো বেশি ভয়াবহ এই বাজারে সকালে প্রবেশ করলে মনে হবেনা সরকারি ভাবে স্বাস্থ্যবিধির কোন নির্দেশনা জারী করা আছে। একজনের গায়ে ওপর আর একজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দোকানদার সহ এদের অনেকের মুখে মাস্ক নাই। থানা পুলিশ তৎপর থাকলেও বাজার বনিক সমিতির নেই তেমন কোন মনিটরিং ব্যবস্থা।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ীগ্টে বাজার বনিক সমিতির সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী বলেন, করোনার প্রাদূভাব দেখা দেওয়ার সাথে সাথে খুলনা জেলা প্রশাসনের এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিধি নিদের্শনা মানতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থায়ীভাবে মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে এবং জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন ঘোষনা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া থানা পুলিশ এবং বাজার বনিক সমিতি প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করছে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জনসমাগম স্থান এড়িয়ে চলতে থানার গাড়ীতে প্রচার মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন করতে অর্পিত দায়িত্বপালনে থানার পুলিশ সদস্যরাও করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন মানুষ স্বাস্থ্য বিধি না মানার কারণে দিন দিন করোনাভাইরাসের রোগির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সময় আছে এখনও যদি সামাজিক দুরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানা না হয় তা হলে আমাদেরকে এর চরম মূল্য দিতে হবে। সকলের জন্য আগামীতে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিনতির। তিনি ঘরে থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিজে ও পরিবারকে বাঁচান, অন্যকে বঁাঁচান এবং দেশের মানুষকে বাঁচানোর আহবান জানান।
এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত ঘরের বাইরে অবস্থানের নিষেধাক্কা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। তাছাড়া ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মটরসাইকেলে একের অধিক আরোহী, ভ্যান-রিকশা, ইজিবাইক, মাহেদ্র চলাচলে সরকারি যে বিধি নিষেধ রয়েছে তা মানা হচ্ছে না।
