প্রতিবন্ধী সাঈম এখন আর কারো বোঝা নয়।

 প্রকাশ: ২০ জুন ২০২০, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়


 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : 

সিরাজগন্জের রায়গন্জ উপজেলার সাইফুল ইসলামের প্রথম পুত্র প্রতিবন্দ্বি সাঈম ( ১৮)। জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করা সাঈমকে নিয়ে বড়ই চিন্তিত ছিল তার পিতা মাতা। শরীরের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ঠিক থাকলেও ঠিক ছিল না তার দুটি পা। পায়ের উপরের অংশ ভালো থাকলেও নিচের দুইটি অংশ ছিল খুবই অকেজো। অন্যের সাহায্য ছাড়া সাইম একচুলও হাঁটতে পারে না। স্থানীয় পৌরসভা থেকে পাওয়া একটি হুইল চেয়ার তার চলার একমাত্র সঙ্গী। একটা সময় সাঈমকে ভর্তি করে দেওয়া হয় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। নিজে নিজে চলতে পারে না বলে সেখানে পড়া হয়নি। পরে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেয় কার পিতা।

সেখানেও বেশি পড়া হয়নি তার। 

এর মধ্য দারিদ্র্যতার সাথে পাল্লা দিয়ে সাইফুলের ঘরে পর পর চার সন্তান জন্ম নেয়। ২ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে সাঈম প্রতিবন্ধী হওয়ায় সকলের দৃষ্টি ছিল তার প্রতি। বাবা সাইফুল এবং ছোট ছেলে নাইমের সহযোগিতায় সাইম এখন পুরোদস্তুর একজন মুদি ব্যবসায়ী। ভাই ভাই স্টোর নামে তার দোকানটি এখন রায়গঞ্জ পৌরসভার মূল কেন্দ্র ধানগড়া বাজারের মধ্যে অবস্থিত। সাইমকে তার বাবা এবং ছোট ভাই নাঈম সহযোগিতা করে। নাঈম একজন কাচামাল ব্যবসায়ী। সাঈম সকালে ঘুম থেকে উঠে হুইল চেয়ারে বসে অন্যের সহযোগিতায় এসে দোকানের শাটার খুলে বসে পড়ে দোকানে। চলে বেচা কেনা।

হাতের নাগালেই প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সাজিয়ে রেখেছে সে। দোকানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মালামাল আছে। প্রতিদিন ৫/৬ হাজার টাকা বেচা কেনা হয়। মালামাল খরিদের জন্য তার বাবা তাকে সাহায্য করে আসছে।

সাঈম এখন কারো বোঝা নয়। সে এখন ব্যবসার মাঝেই নিজের ভবিষ্যতের ঠিকানা খুজে পেয়েছে। সাঈমের সাথে কথা বলে জানা যায়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটা সময় হতাশ হয়ে পড়েছিল সে। কিন্তু সময় এবং জীবনের প্রয়োজনে তার বাবা এবং ছোটভাই মিলে পৌর শহরের মধ্য পৌর মার্কেটের এক ঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে সেই নিরাশা কেটে যায় তার । এখন তার মনে অনেক সুখ। প্রতিদিনের বেচাকেনায় তার স্বপ্নের ডালপালাও বাড়ছে বলে জানান প্রতিবন্ধী সাঈম। 

তার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর ইচ্ছা হয়েছে যেমন আমাকে দিয়েছেনও তেমন। আমি খুশি। সাঈম আমার বড় সন্তান। ওকে কিছু করে দিতে পেরেছি এটাতেই আমি তৃপ্তি পাই।

জাতীয় এর আরও খবর: