বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে কৃষির অবদান।
এস.এম নুর ইসলামঃ
বিচিত্র সৌন্দর্যের লীলাভুমি বাংলাদেশ। ঋতু পরিক্রমায় এখানে দেখা যায় বৈচিত্রময় রুপ। ষড়ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রুপ এদেশ কে করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বৈচিত্রময়। প্রকৃতির এমন বৈচিত্রময় রুপ পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই।
নদী বিধৌত কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ।এদেশের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসও হচ্ছে কৃষি।অক্লান্ত পরিশ্রম করে কৃষক ফলায় সোনার ফসল,যার দ্বারা দেশবাসি নিবারন করে ক্ষুদা। কৃষকের ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমে উৎপাদিত কৃষিপন্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে গতিশীল হয় দেশের অর্থনীতির চাকা। জনসংখ্যাবহুল আমাদের দেশে খাদ্য সমস্যা মোকাবেলা কৃষি উৎপাদনের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ও জাতিয় আয় বৃদ্ধিতে কৃষক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। কৃষি উৎপাদন হ্রাস পেলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদনে সংকট দেখা দেয় এবং দ্রব্যমূল্য চলে যায় নাগালের বাইরে। পক্ষান্তরে, কৃষি উৎপাদন ভালো হলে দেশের অর্থনীতি হয় সমৃদ্ধ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে পাট ও বস্ত্রশিল্প আর এই পাট ও বস্ত্রশিল্পের প্রধান উপকরনও আসে কৃষি থেকে। বিভিন্ন প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ খাদ্যশস্যের যোগান দিয়ে থাকে কৃষক। তাছারাও দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৩ শতাংশ কৃষি খাতের ওপর নির্ভরশীল।দেশের যেকোন মহামারি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কালে কৃষি গ্রামীন অর্থনীতি ও দেশের মানুষকে বাচিয়ে রাখে। কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে দেশবাসির ভাগ্য জড়িত। আর এই কৃষি ব্যবস্থার কান্ডারি যারা সেই কৃষক সমাজ আজ নানাভাবে অনাদৃত, উপেক্ষিত ও লাঞ্চিত। ২০২০-২১ অর্থবছরের নতুন বাজেটের ২৯,৯৮৩ কোটি টাকা তথা মোট বাজেটের ৫.৩ শতাংশ কৃষিখাতে বরাদ্দ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় বর্তমান সরকারের রয়েছে কৃষিবান্ধব নীতি। কিন্ত এ নীতি থাকা স্বত্তেও বাংলাদেশের কৃষক কেন এত পিছিয়ে? কারন এদেশের কৃষকের একদিকে রয়েছে যেমন দুর্বলতা ও সরলতা তেমনি অপরদিকে রয়েছে দারিদ্রতা ও মূর্খতা এবং কৃষি বাজারে প্রকৃত উৎপাদক চাষীর শক্তিশালি অবস্থান না থাকায় কৃষক কিনতেও ঠকে আবার বেচতেও ঠকে এবং এ দেশের কৃষকের রয়েছে যথেষ্ট প্রশিক্ষনের অভাব, মুলধনের অভাব, কৃষি উপকরনের অভাব, কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের অভাব এবং ত্রুটিপুর্ন বাজার ব্যবস্থা। এ সকল সমস্যা নিরসনে ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপ থাকলেও, নেই তার সঠিক বাস্তবায়ন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কৃষিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন এবং কৃষকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আরও সুদূরপ্রসারি পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কৃষকের সার্বিক উন্নয়ন করা দরকার। সবশেষে বলতে চাই বাংলার কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার চাষাবাদে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরন ও কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত করে গড়ে তোলা। তাহলেই বাংলাদেশের অবহেলিত দরিদ্র কৃষকের ভাগ্য ফিরবে, আর কৃষকদের ভাগ্য ফিরলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা হবে আরও গতিশীল।
উপরোক্ত সকল বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করেও এ দেশের কৃষকেরা যেন পুষ্পের ন্যয় পরার্থে জীবন উৎসর্গ করার মাঝেই ব্যস্ত থাকে।
লেখক-
এস.এম নুর ইসলাম
বিবিএ অনার্স (২য় বর্ষ)
হিসাববিজ্ঞান
জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়।
