খানজাহান আলী থানার পুলিশ সদস্য সহ -১৩জন করোনায় আক্রান্ত ।
খুলনা ব্যুরো প্রধান জিয়াউল ইসলামঃ
খানজাহান আলী থানার ১১ পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানাগেছে। একই দিনে ফুলবাড়ীগেট কুয়েট রোর্ডের এক মহিলা এবং শিরোমণির এক যুবক রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ জুন বুধবার নমুনা পরীক্ষায় তাদের করোনা পজেটিভ এসেছে বলে মেডিকেল কলেজ সুত্রে জানাগেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম। এর আগে থানা এলাকায় করোনা পজেটিভে আক্রান্ত ২৩জনকে নিয়ে মোট পজেটিভের সংখ্যা দাড়াল ৩৬ জনে।
খানজাহান আলী থানার এস আই রোকনুজ্জামানে শরিরে গত ১৬ জুন করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। এই পুলিশ সদস্যের নমুনা দেওয়ার দশদিন পর রেজাল্ট আসে তিনি করোনা পজেটিভে আক্রান্ত। সাথে সাথে থানা লকডাউন করে থানার সকল সদস্যদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়। পরদিন ১৮ জুন থেকে কয়েক ধাপে থানার অফিসার্স ইনচার্জসহ ৭৫ পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। কিন্তু এবারও রির্পোট পেতে বিলম্ব নমুনা দেওয়ার ছয়দিন পর গত ২৪ জুন পরীক্ষার রির্পোট দেওয়া হয়।
রির্পোটে থানার হযরত আলী(৪৭), নাসির উদ্দিন(৪৫), আবু ফজল(৫২), মো. মাফিজুল(৪৭), সোহেল রানা(৪৫), লুৎফল হাসান(৪৫), আজিজুর রহমান(৪৪), আলীমুজ্জামান(২৯), শাহাদাৎ হোসেন(৪৯), শফিকুল ইসলাম(৪৫) এবং আজিজুর রহমান(৪৫) মোট ১১জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তবে নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং ওসি তদন্ত মো. কবির হোসেনের করোনা নেগেটিভ এসেছে। প্রথম ধাপে দেওয়া নমুনার রির্পোট পাওয়াগেছে এখন রির্পোট বাকি আছে। এছাড়াও গত ২৪ জুনের নমুনা পরীক্ষায় ফুলবাড়ীগেট কুয়েট রোর্ডের কুয়েটের এক কর্মকর্তার মাতা মরিয়ম তালুকদার(সদ্য মৃত্যু বরণ করা) এবং শিরোমণির শেখ আ. রাজ্জাকুর(৩৩) নামের দুইজন রয়েছে। দামোদরে রয়েছে জাকিয়া হাসান বিনা(৪২), মেহজাবিন বিথি(২৮), ওমর ফারুক(২৮) ও আবু সালেহ আকাশ(২২) নামের চারজন।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক ধাপে মোট ৭৫ জনের নমুনা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে গত ১৮ জুন দেওয়া ১৯জনের নমুনার মধ্যে ১১জনের করোনা পজেটিভ এসেছে এখন বাকি ৫৬জনের রির্পোট জানাযায়নি। তিনি সকলকে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা থাকবেন তাদেরকে যথাযথ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষ ভাবে আহবান জানিয়ে। দেশের এই পরিস্থিতে সকলকে নিজনিজ স্থান থেকে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহবান জানান।
এর আগে খানজাহান আলী থানা এলাকায় গত ২৩ জুন ফুলবাড়ীগেটের(খানাবাড়ী) জিহাদুল ইসলাম(৫০), ২১ জুন শিরামণির সিরাজুল ইসলাম(৭৯), আমিরুল ইসলাম(৫০),গিলাতলার তাহেরা বেগম(৪৮), ২০ জুন যোগিপোলের আব্দুস সামাদ(৭০), ফুলবাড়ীগেট(মহেশ^রপাশা খানাবাড়ীর) জাহিদুর রহমান(৪৫), ১৯জুন খানজাহান আলী থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যোগিপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আনিছুর রহমান ও তার ছোট ভাই শেখ জামিল আহম্মদের টেস্ট রির্পোটে করোনা পজেটিভ আসে একই দিনে পজেটিভ আসে যোগিপোলের মোশারফ হোসেন(মৃত) এবং ১৮ জুন শিরোমণির মনির গাজী ও তার মেয়ে মেহজাবিনসহ তিন জন, গিলাতলার ইন্তাজ শেখ(৭০), গাবতলার এক যুবকের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে।
খানজাহান আলী থানা এলাকায় সর্বপ্রথম করেনা পজেটিভ ধরা পড়ে ইস্টার্ণ জুট মিলের রপ্তানি বিভাগের প্রধান মো. পারভেজ কবিরের শরিরে। পরবর্তিতে ইষ্টার্ণ জুট মিলের আরো দুই নারী সহ ৪জন আক্রান্তের খবর পাওযা যায়। করোনা পজেটিভ আসে মীরেরডাঙ্গা আরআরএফ পুলিশ লাইনের একজন পুলিশ সদস্যের, ফুলবাড়ীগেট এলাকার একজন শিক্ষিকা, একজন ফার্মেসীর মালিক, খানজাহান আলী থানার একজন এস আই, শিরোমণির ৬০ বছর বয়েসি একজন বৃদ্ধার করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর খুলনা মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়।
ফুলবাড়ীগেট প্যাসেন্টস্ নার্সিং হোমের প্রধান ডাক্তার গিরীন্দ্রনাথ কুন্ড বলেন আমরা করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ইচছাকৃত ভাবে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা না মানায় দ্রুত আমদেরকে এর কঠিন পরিনতির সম্মুখিন হতে হবে। তিনি বলেন সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি না মানা, পরীক্ষার রির্পোট পেতে বিলম্ব এবং ল্যাবে নমুনা দিয়ে এসে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরার কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে আমাদের উদাসিনতায় যে ভাবেই হোক প্রায় প্রতিটি মানুষের শরিরে এই ভাইরাস স্থান করে নিতে পারে, তবে যার শরিরে এন্টি প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নিজে মনবল থাকবে তিনি করোনা জয় করে স্বাবাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।
