রাজশাহী শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ।
লিয়াকত হোসেন রাজশাহীঃ
রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগের নির্বাহী প্রকৌশলী বদলির পর এখন পর্যন্ত দপ্তরটি আলোর মুখ দেখেনি ।
রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের টেন্ডার ও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ নিয়েও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। প্রতিটি টেন্ডারে ২ থেকে ১০ শতাংশ অর্থ না দিলে কার্যাদেশ পাওয়া যায় না। আবার উচ্চ দরদাতা হলেও অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ।এক কথায়,রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ করেন কে টেন্ডার পাবেন আর কে পাবেন না।
যোগদানের পর থেকে মরিয়া হয়ে পড়েন ঘুষ বানিজ্যে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম । যার ফল স্বরুপ নগরীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ না করেই বিল পরিশোধ করেছেন মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে । এ রকম অনেক কাজের বিল তিনি পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ভুক্তভুগি ঠিকাদার ।
এ দিকে সার্বিক বিষয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিস্টার মেহেদি হাসান উত্তরবঙ্গ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার দুর্নীতি ও আধিপত্য বিস্তার দূর করতে ইজিপি পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু বাস্তবে এই পদ্ধতিতে সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দুর্নীতি আরো বেশি করছে । অনেক অযোগ্য ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই কাজ না করেও ঘুষ নিয়ে তাদের বিল পরিশোধ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম।উদাহারন স্বরুপ রাজশাহী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজ অন্যত্তম উদাহারন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে এ সকল কিছুর সত্যতা পাওয়া যায়, রাজশাহী কলেজের কাজ নিয়ে। কেননা রাজশাহী কলেজের বারান্দার ছাদ নির্মান ওয়ার্ক সিডিউলে নাই। তবু উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল রায় জোর করে রায়হান নামের আরেক ঠিকাদারকে বলেন আপনাকেই এটি করেই দিতে হবে। এর উত্তরে ঠিকাদার না বললেই চড়াও হন রায়হান নামের ঐ ঠিকাদারের উপর। এর বাকী কারনটা অবশ্য আর কারো অজানা নেই।
তবে যাই হোক,শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম একটি গনমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন – ঠিকাদার হাসান আমাকে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন,মারতে চেয়েছেন।
যদিও এই ধরনের ঘটনার কোন সত্যতা মেলেনি ঐ দফতরে।
অবশ্য সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে কোন মন্তব্য করতে ইচ্ছুক না বলে জানান।
এদিকে রাজশাহীর সুশীল সমাজ তথা বিজ্ঞদের প্রশ্ন- ইজিপির মাধ্যমে যদি টেন্ডারই হয় তাহলে কিভাবে একজন ঠিকাদার ভয় ভীতি দেখিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে টেন্ডারবাজী করতে পারে।
