জননেত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনী।

 প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২০, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়


  জানুন আর পড়ুন ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বড় সন্তান তিনি। 


১৯৫৪: শেখ হাসিনা পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় প্রথম মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস শুরু করেন। 


১৯৫৬: শেখ হাসিনা টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। 


১ অক্টোবর, ১৯৬১: শেখ হাসিনা পরিবারসহ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। 


১৯৬২: স্কুলের ছাত্রী হয়েও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার নেতৃত্বে মিছিল বের করেছিলেন শেখ হাসিনা। 


১৯৬৫: আজিমপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শেখ হাসিনা এসএসসি পাস করেন।


১৯৬৬- ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করা শেখ হাসিনা ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। 


১৯৬৭: বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। 


১৯৭৩: শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি পাস করেন। এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।  


১৯৭৫: পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এই রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশে না থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। 


১৯৮১ - আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। 


১৭ মে, ১৯৮১: দীর্ঘ ছয় বছর পর দেশ ও দলের এ দুঃসময়ে সামরিক শাসকদের রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন শেখ হাসিনা। 


১৯৮২: জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আরোহনকে অবৈধ ঘোষণা করে এরশাদ-বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন শেখ হাসিনা। 


১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩: দেশজুড়ে সামরিক শাসক এরশাদ-বিরোধী দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠায় ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। 


২৪ জানুয়ারি, ১৯৮৮: চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশ ও বিডিআর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় অল্পের জন্য শেখ হাসিনার জীবন রক্ষা হলেও নিহত হন ৯ জন সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থক।  


১৯৯০- শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। 


২৬ মার্চ, ১৯৯২: শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালতের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার সম্পাদন করা হয়। এই আন্দোলনে শেখ হাসিনা যদি পাশে না দাঁড়াতেন, তাহলে এই গণবিচার করা সম্ভব হতো না। 


২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪: শেখ হাসিনার ট্রেন অভিযাত্রায় ঈশ্বরদী ও নাটোরে ব্যাপক সন্ত্রাস, গুলি, বোমা হামলা ও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ আহত হন শতাধিক। 


২৩ জুন, ১৯৯৬: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। 


১৯৯৬- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি সম্পন্ন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ - মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি। 


৭ নভেম্বর ১৯৯৯- শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ১৯৯৯ সালের ৭ নভেম্বর বাঙ্গালির অমর ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইউনেস্কো। 


২১ আগস্ট, ২০০৪- রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হয় তিন শতাধিক। 


১৬ জুলাই, ২০০৭: ২০০৬ সালে পট পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগ শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। 


৬ জানুয়ারি, ২০০৯: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 


২০১০- নিউ ইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরীপে বিশ্বের সেরা দশ ক্ষমতাধর নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা ৬ষ্ঠ ক্ষমতাধর নারী হিসেবে নির্বাচিত হন। 


১২ জানুয়ারি, ২০১৪: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। 


৭ জানুয়ারি, ২০১৯: গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।


বিঃদ্রঃ-- জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে নিজ যৌগ্যতাবলে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন সারা বিশ্বে বিশ্ব নেত্রী হিসেবে আভির্ভূত হয়েছেন।এই পর্যন্ত তিনি ৩৯ টি আন্তর্জাতিক পুরুস্কার লাভ করেছেন।বাংলাদেশকে উন্নত করার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তিতে অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় এর আরও খবর: