কালকিনিতে লকডাউন মানছে না গ্রামের মানুষ, মাক্সহীন অবাধে চলাচল।

 প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২১, ০২:০৯ অপরাহ্ন   |   লাইফস্টাইল


রিপোর্টঃ শেখ লিয়াকত আহম্মেদ


মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় গ্রামের মানুষ লকডাউনকে পাত্তাই দিচ্ছে না, ফলে গ্রামের ছোট ছোট বাজার গুলোতে বিকাল থেকে শুরু করে রাত দশটা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা, রয়েছে চায়ের দোকানে আড্ডা আগের মতোই, পড়ছে না কেউ মাক্স, মানছে না কেউ সামাজিক দূরত্ব। 


লকডাউন বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় শহরে দোকানপাঠ বন্ধ থাকলেও গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে স্বাস্থ্যবিধি অনেকেই মানছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে (২৭জুলাই) জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন সনাক্ত ১৬৮ জন, এর মধ্যে কালকিনিতে ২০ জন করোনা সনাক্ত হয়েছে, মোট সনাক্ত ৭৭৪ জন।


গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। তিন চাকার ব্যটারী চালিত ইজিবাইক ও রিকসাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূরঘাটা বাসস্টানে একটু দুরেই ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও মহেন্দ্রর জটলা। তারা সেখান থেকে মস্তফাপুর সহ মাওয়া ফেরীঘাটে যাত্রী পরিবহন করছে। শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও গ্রামের ভিতরে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। লকডাউন তারা মানতেই নারাজ। সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাসার থানায় বালিগ্রাম ইউনিয়নের আনন্দ বাজারে সন্ধার পরে বাজারে সমস্ত দোকানপাট খোলা, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, ফুচকা-চটপটি, কাচাবাজার দোকান খোলা। দু-একজন মাক্স পড়লেও অধিকাংশের মাক্স ব্যবহার করছে না। চায়ের দোকানে টিভি চলছে, আড্ডা দিচ্ছে আগের মতোই। 


বাজারে আগত নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, দিনে মাঝে মাঝে পুলিশের লোকজন আসে তখন সবাই দোকান বন্ধ করে পালায়, পুলিশ গেলে আবার দোকান খোলে কিন্তু সন্ধার পর কেউ আসে না তাই সবাই বাজারে এসে আড্ডা দেয়। এছাড়াও পৌর এলাকার কাশিমপুর বাজার, ঝড়গাঁও বাজার, সাহেবরামপুর, মিয়ার হাট, সমিতির হাটসহ বিভিন্ন বাজারে সন্ধার পরে লোক সমাগম চোখে পড়ার মতো, প্রায় দোকান খোলা, চায়ের দোকানে আড্ডা, স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ।  


এব্যাপার জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে আমাদের পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী নিয়োমিত টহল দিচ্ছে। জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত মোবাইল কোর্ড পরিচালনা করছেন। তাছাড়া সবজায়গায় তো এক সাথে যাওয়া সম্ভব না। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটি করে দিয়েছি তারা সবসময় প্রচারপ্রচারণা চালাচ্ছেন। আমাদের জনগণকেও সচেতন হতে হবে। আমাদের তৎপরতা অব্যহত থাকবে বলে জানান তিনি।