১০ আগস্ট ২০২৬
মনা যশোর প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫ নং পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ মফিজুর রহমান। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সেবা, সামাজিক উন্নয়ন এবং রাজপথে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রেখে তিনি পুটখালী ইউনিয়নে একজন সুপরিচিত, যোগ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রার্থী হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ মফিজুর রহমান বলেন,আমি বা আমাদের পরিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচীকে বুকে ধারণ করে বিএনপি করি।এবং দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে গত ৩৫ বছরের অধিক সময় দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। পুটখালী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত, ও বৈষম্যহীন মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র বিএনপি করার কারনে একাধিক নাশকতা মামলার আসামী হয়ে জেল খেটেছি। কয়েকদফা আমার মাছের ঘের লুট করা হয়েছে।আমি সহ আমার ভাইদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতে ডাকাতি করা হয়েছে,১টি মিনিট্রাক ও ২টি মটর সাইকেল চুরি করা হয়েছে।
আমি পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক থাকা অবস্থায় ৪নং ( কৃষ্ণপুর - শিবনাথপুর) ওয়ার্ডের ২ বার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলাম,এরপর আমি ফখরুদ্দীন, মঈনউদ্দিনের ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তী দল আমার কার্যক্রমে খুশি হয়ে ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন করার অনুমতি দেয়।সেই নির্বাচনে আমি ২৫৬ ভোটে জয়ী হলেও প্রতিত সৈরশাসক হাসিনার ক্যাডার গত ১৭ বছর যার অত্যাচারে শার্শার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল সেই দুনীতিবাজ,সন্ত্রাসীদের গড ফাদার এমপি আফিল উদ্দিনের নির্দেশে আমার ভাইদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং আমার কাছ থেকে একটি রেজাল্ট শীটে সাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে। আমি সেই পাতানো রেজাল্ট শীটে সাক্ষর না করার কারনে ফলাফল ৪৮ ঘন্টা আটকিয়ে রাখে এবং পরবর্তীতে ৫২ ভোটে আমাকে পরাজিত দেখিয়ে উপজেলা থেকে ফলাফল ঘোষনা করে। সে ঘটনা তৎকালীন সমায়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা আজও ইউনিয়ন বাসীর মুখে মুখে।
সে ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে দল আবারো আমাকে দলীয় মনোনয়ন ও ধানের শীষ প্রতিক দিয়ে নির্বাচন করার অনুমতি দেয়।কিন্তু আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র ও অব্যহত হুমকি ধামকির কারনে আমিসহ উপজেলার বিএনপির কোন প্রার্থী নির্বাচন করতে পারেনি।
অপর দিকে ২০১৫ সালে দল আমাকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দায়িত্ব দেয়। ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে কোন দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, চোরাচালানীসহ কোন রকম দুনীতির সাথে আপোস না করে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের নিয়ে সততা ও নিষ্টার সাথে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।
দল যদি আমার বিগত দিনের রাজনীতি, ত্যাগ ও গণমানুষের ভালোবাসার মূল্যায়ন করে আমাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়, তবে আমি সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যক্তিগত সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ চলায় মোঃ মফিজুর রহমান সবসময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখের অংশীদার হয়েছেন। পুটখালী ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে দলীয় সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও গণমানুষের অধিকার আদায়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সততা এবং মানবিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
তার নেতৃত্বের গুনাবলী, জনপ্রিয়তা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারনে সে অন্য যেকোন প্রার্থীর চেয়ে তাকে এগিয়ে রেখেছে।