দৌলতপুরে ক্ষতিগ্রস্থ্য খামারিদের মাঝে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ
মানিকগঞ্জকে উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান
রবিউল আলম, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জসহ নদীবিধৌত চরাঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে দৌলতপুরে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে বকনা বাছুর ও পশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে ৫০ টা পরিবারকে ১ (এক) টি করে বকনা বাছুর ও ২ বস্তা করে পশু খাবার, মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে বিতরণ করেন।
‘মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পটির মেয়াদকাল সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নদীতীরবর্তী ৬৫ হাজার ২৯০টি দরিদ্র পরিবারের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন এবং নদীর চরাঞ্চলে দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্বি করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর এমপি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা।
এ সময় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার, কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকসহ দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে চলে। এসব এলাকার মানুষের জন্য গবাদিপশু পালন আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে মানিকগঞ্জ জেলাকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, নদীভাঙন ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত মানিকগঞ্জের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে আরও বেশি সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা উন্নয়নে প্রাণিসম্পদভিত্তিক প্রকল্প আরও সম্প্রসারণ করা হলে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষক ও খামারিদের স্বাবলম্বী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারের এসব উদ্যোগের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রকল্পের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বকনা, ছাগল, পাঠা, ভেড়া, হাঁস-মুরগি বিতরণ, পশুর টিকা, কৃমিনাশক ও ওষুধসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের এ উদ্যোগ চরাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
