যশোরের ঝিকরগাছায় নববধু মিনারার রহস্য জনক মৃত্যু।
আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধানঃ
যশোরের ঝিকরগাছার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শেয়ালঘোনা গাতিপাড়া গ্রামের মন্টু হোসেনের মেয়ে মিনারা খাতুন (২২), নামের নব বধুর মৃত্যু যেন রহস্য জনক। হত্যা না কি আত্মহত্যা এই নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে যেয়ে জানাযায়, মিনারার সাথে একই ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে বাবুল হোসেন (২৭), এর সাথে গত ১২-০১-২০২২ ইং তারিখে পারিবারিক ভাবে দেখা শুনার মাধ্যমেই তাদের বিবাহ হয়। কিন্ত মিনারার গায়ের হলুদের গন্ধ ও মেহেদীর লাল রং যেন শেষ হতে না হতেই যৌতুক ও মোটর সাইকেলের দাবির কাছে স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের নিকট মাথা নত করে রহস্য জনক ভাবে গত ২৬-০২-২০২২ ইং তারিখে দুপুর ১২:৩০ মিনিটের দিকে প্রান দিতে হল মিনারার। এমন টিই দাবি করেন মিনারার পিতৃকুল।
বাবুলের পরিবার থেকে সংবাদ পেয়ে মিনারার পরিবারের লোক জন সেখানে যেয়ে দেখে তাদের মেয়ের মৃত লাশ পড়ে আছে, মিনারার পরিবারের থেকে জানা যায় যে আমরা মিনারার আত্মহত্যার কোন আলামত দেখতে পাইনি। যে চিহ্ন দেখা গেছে সেটা আঘাতের, আত্মহত্যার নয়। কিন্ত বাবুলের পরিবার জানাই যে সে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সেখানে মিনারার পরিবারের দাবি মিনারা আত্মহত্যা করেনি, তার গলায় রশি বা অন্য কিছুর দাগ নাই, যে ক্ষত চিহ্ন দেখা গেছে সেটা অন্য কিছুর। তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার পায়তারা করে চলেছে বাবুলের পরিবার ও ওই গ্রামের কিছু অসাধু ব্যক্তি।
এই বিষয়ে সরেজমিনে যেয়ে জানতে চাইলে
মিনারার মাতা দৈনিক আলোচিত বার্তা, দৈনিক কপোতাক্ষ নিউজের সাংবাদিক আব্দুল জব্বার ও চ্যানেল সিক্স বাংলা টিভির সাংবাদিক বিল্লাল হুসাইন সহ অন্যান্য সাংবাদিক দের বলেন, আমার মেয়ে মরতে পারেনা সে একজন শিক্ষিতা সচেতন মেয়ে, তাকে মারা হয়েছে। মিনারার গলায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলেছে। মিনারা মরেনি ওরা ওকে মেরে ফেলেছে। আমার মেয়ে আমার ফোনে কথা বলবে তাও বলতে দেয় নি বা দিত না। বলতো টাকা নিয়ে আয়,গাড়ী দিতে বল। বাবুল ও তার পরিবার অর্থলোভী, আমরা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই সুস্থ তদন্ত পুর্বক যেন সঠিক বিচার হয়। না হলে হাজারো মিনারার জীবন দিতে হবে এই বলতে বলতে মিনারার মাতা অঝোরে ক্রন্দন করতে থাকে এক পর্যায় সে অচেতন হয়ে পড়েন।
জানতে চাইলে মিনারার বড় বোন মনিরা বলেন, আমার বোনের বিয়ে হওয়ার কয়েক দিন পরই বাবুলের মা ও বাবুল চার লক্ষ টাকা ও মোটর সাইকেল দিতে হবে বলে যৌতুক দাবি করে। বিয়ের মেহেদির রং যেতে না যেতেই শুরু করে শারিরীক নির্যাতন, মিনারা আমার সাথে বলে যে ওরা টাকা ও মোটর সাইকেল চাই বাবুল আমাকে বলে তোমার চাইতে ভাল মেয়ে আমি বিয়ে করতে পারব পরিবার তোমাকে দেখে দিলে কি হবে টাকা ও গাড়ী না দিলে তোমাকে রাখব না। সে প্রায় ফোনে কার সাথে কথা বলে আমি জানতে চাইলে আমাকে মারধর করে। মিনারা আরও বলে, যে আপা আমি অন্তঃসত্ত্বা। সে আমাকে বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলে আমি রাজি না হওয়াতে আমাকে মারধর করে। বলে আমাকে মেরে ফেলবে,বাবুল আমাকে জোর করে ঔষধ খাওয়ায় বাচ্ছা নষ্ট করার জন্য।
মিনারার বোন আরও বলেন, যে আমার বোন আত্মহত্যা করেনি তার গলায় ফাঁস দেওয়ার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যে দাগ ছিল সেটা আঘাতের।
এই মৃত্যুর বিষয়ে বাবুলের বাড়ীতে যেয়ে দেখা যায়, তার বাসাই তালা দেওয়া, একাধিক বার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা জানাই তারা মৃত্যুর দিন থেকে পলাতক। এই মৃত্যু নিয়ে এস আই রাকিব হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, যে লাশ দেখে প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হয়েছে,তবে সঠিক টা বলতে পারছি না, লাশ পোষ্ট মার্টম করা হয়েছে রিপোর্ট আসলে সঠিক টা জানা যাবে। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন অপমৃত্যু র মামলা হয়েছে, রিপোর্ট আসার পর জানাতে পারব কি হবে।
