স্বাধীনতা দিবসে যমজ তিন কন্যাশিশুকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর উপহার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পরিবারের

 প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২২, ১১:২৭ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর


জাহিদ হাসান, নাটোর প্রতিনিধিঃ 

 মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুরের যমজ তিন কন্যাশিশুকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী উপহার হিসাবে দশ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। ঐ গ্রামে গত বছরের ২৪ নভেম্বর লিটন-লাভলী দম্পতির ঘর আলো করে একসাথে জন্ম নেয় চারটি কন্যাশিশু। জন্মের পরপরই একটি শিশু মারা গেলেও ফুটফুটে তিন কন্যা আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে দেয় চারিদিক। কিন্তু আগের এক ছেলে ও মেয়েসহ মোট পাঁচটি সন্তান নিয়ে দরিদ্রতার কষাঘাতে চরম অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন এই দম্পতি। সংবাদটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট জুনাইদ আহ্মেদ পলকের নজরে আসে। এরপরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপহার স্বরুপ শিশুদের দুধ কেনার জন্য সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন তিনি। পরবর্তীতে অসহায় এই পরিবারদিকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেবেন বলে আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মহেন্দ্রক্ষণে প্রতিমন্ত্রীর দেয়া ১০ হাজার টাকা লিটন-লাভলী দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হয়। এসময় আবেগে আনন্দে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।   


যমজ শিশুদের মা লাভলী বেগম জানান, বাচ্চাদের ঠিকমতো দুধ কিনে দিতে পারছিলাম না। প্রতিমন্ত্রী পলক মহোদয় দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য। এটা যে কতো বড় খুশির খবর তা বলে বোঝাতে পারবো না। 


যমজ তিন শিশুর বাবা লিটন উদ্দিন জানান, অবাবের সময়ে অনেক বড় উপহার পেলাম। বাচ্চাদের দুধ কিনতে ধার দেনা করেছি। পলক ভাইয়ের কথা অনেক শুনেছি। কখনো সামনাসামনি দেখিনি। আজ তার এই সহযোগিতার কথা আজীবন মনে থাকবে। ছোট শিশুদের জন্য দুধের টাকা পাঠিয়ে দিয়ে তিনি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করি। তিনি যেন সুস্থ থাকেন। পলক ভাই আমাদের দুঃখ দুর করার উদ্যোগ নেবেন বলে শুনলাম। আমরা পলক ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। 


সাংবাদিক নাহিদুল ইসলাম জানান,  গত বছরের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে চার কন্যা শিশুর জন্ম দেন বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের গৃহবধূ লাভলী বেগম। এর মধ্যে এক শিশু মারা গেলেও বাকি তিন কন্যা লাবন্য, লাবিবা ও লামিশা সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে। ফুটফুটে নবজাতকদের আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সবসময় মেতে থাকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। কিন্তু দারিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত হতদরিদ্র এই পরিবারটি। অর্থাভাবে সন্তানদের মুখে ঠিকমতো খাবার তুলে দিতে পারছেন না তারা। লিটন-লাভলী দম্পতির আগেই লিমন হোসেন নামে ১৪ বছর বয়সী একটি ছেলে এবং লিজা খাতুন নামে ছয় বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। পরে একসাথে চারটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। তার মধ্যে একটি মারা গেলেও বাকি তিনজন সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। লিটন দিন হাজিরা চারশ’ টাকায় অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। এই স্বল্প আয়ে দিনযাপন করা খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট জুনাইদ আহ্মেদ পলকের সহযোগিতায় খুশি স্থানীয়রাও। তারাও চাইছেন প্রতিমন্ত্রী অসহায় এই পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেবেন।

জেলার খবর এর আরও খবর: