শার্শায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে আহত

 প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন   |   জেলার খবর


মনা,বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধিঃ

  যশোরের শার্শায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগনেতা কাজী মালেকুজ্জআমান সুজন (৩৭)কে পিটিয়ে আহত করেছে শার্শা উপজেলা কলেজের শিক্ষার্থীরা।


বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার সময় শার্শা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় সুজন বাদী হয়ে শুক্রবার বিকালে শার্শা থানায় ফয়সাল, দিপু, সিয়াম, আকাশ ও আসাদুজ্জামান আসাদ সহ অজ্ঞাত নামা ৫০/৬০ জনকে বাদী করে একটি সাধারণ ডায়রী করেছেন।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার বিকালে শার্শা উপজেলা কলেজের একদল ছাত্র-ছাত্রী কলেজ ছুটি শেষে বেনাপেলে বাড়ী যাওয়ার জন্য শার্শা বাসস্টান্ডে যাত্রী ছাউনিতে বসে ছিলো। এ সময় স্থানীয় শার্শা বাজারের ফয়সাল ও প্লাবন নামে দুটি ছেলে এসে তাদের সরে যেতে বলে। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীরা উঠে না গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে চড়থাপ্পর মারতে থাকে।


এ ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়ী না যেয়ে আবার কলেজে ফিরে যেয়ে অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ করলে অধ্যক্ষ কলেজের সভাপতির সাথে পরামর্শ করে পরের দিন সকালে বিষয়টি মিমাংসা করবে বলে জানান। কিন্তু পরের দিন বৃহষ্পতিবার সকালে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসলে ঘটনার কোন প্রতিকার না পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের দিকে যাওয়ার সময় থানার মোড়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দান কারী রুবেল, রাজন ও সোহাগ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পথ রোধ করে।


এক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এসময় ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দানকারী রুবেল, রাজন ও সোহাগ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চড়াও হলে শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে মারামারি। ছাত্র-ছাত্রীরা রুবেল, রাজন ও সোহাগকে বেদম ভাবে মারপিঠ করে আহত করে। এক পর্যায়ে যুবলীগনেতা কাজী মালেকুজ্জআমান সুজন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখে ছাত্র-ছাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে অভিযোগের ৫নং আসামীর হুকুমে সকলে তাকে গালিগালাজ করে।


তিনি তাদেরকে গালিগালাজ করতে মানা করলে ১নং আসামীর হাতে থাকা কোল্ড ড্রিংস এর কাচের বোতল দিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে সুজনের মাথায় আঘাত করে। এরপর ২নং আসামী তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে তার পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে যায়। এসময় তিনি হাত থেকাতে গিয়ে তার হাতের তালু কেটে যায়। এরপর সকলে মিলে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। ততক্ষণে উপস্থিত জনগণ তাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে নেই। এই আঘাতে সুজনের মাথা ফেটে মারাত্বকভাবে আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।


বিষয়টি নিয়ে কলেজের সভাপতির কোন পদক্ষেপ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা চরম ক্ষেভ প্রকাশ করেছেন।


এবিষয়ে শার্শা থানার দায়িত্বরত অফিসার বলেন, থানায় ঘটনাটির একটি সাধারণ ডায়রী হয়েছে। আমরা তদন্ত পূর্বক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।


এব্যাপারে শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এধরনের ঘটনা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে শনিবার সকালে কলেজে মিমাংশার জন্য বসাবসি করার কথা রয়েছে।

জেলার খবর এর আরও খবর: