শরীয়তপুর জাজিরায় মালচিং পেপার পদ্ধতিতেসবজি চাষে বিপ্লব।

 প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২২, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন   |   জেলার খবর


জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুরঃ

 রাস্তা থেকে সবজি ক্ষেতের দিকে তাকালে দেখা যায়নতুন এক পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে সবজি। প্লাস্টিকেরছিদ্র ভেদ করে বেড় হয়েছে বিভিন্ন ধরণের সবজিরগাছ। এক কৃষককে কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এটি হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ। কয়েকজন কৃষক জানালেন, এ পদ্ধিতর প্রবর্তকএসডিএস-এর কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ খাজিআলম। পাশের একটি সবজি ক্ষেতেই দেখা হলো তার সাথে। তার কাছে যানা গেলো এ পদ্ধতির ইতিহাস।


 


তিনি জানান, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস)-এর বাস্তবায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়কফান্ডেশন (পিকেএসএফ) এর অর্থায়নে কৃষিইউনিটের আওতায় ২০১৫ সালে শরীয়তপুর জাজিরাউপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নে ছোট কৃষ্ণপুর গ্রামেলুৎফর আকন নামে একজন কৃষককে মালচিংপদ্ধতিতে শসা চাষের পরীক্ষা মূলক প্রদর্শনী দেওয়াহয়। একটি প্রদর্শনীর সফলতায় আজকে মালচিংপদ্ধতিতে সবজি চাষ জাজিরা উপজেলা থেকে সমগ্রবাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জাজিরা উপজেলায়প্রায় ২০০ একর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্নধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। মালচিং  পদ্ধতিতে শসা,ধুন্দল, চিচিঙ্গা, টমেটো, মরিচ, বেগুন, তরমুজ,স্কোয়াস ইত্যাদির চাষ হচ্ছে।


 


শসা চাষী ফরহাদ খান বলেন, খরা মৌসুমে এক সময়শসার চাষ হতো। কিন্তু তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শসারগাছ ছোট অবস্থায় নষ্ট হয়ে যায়। তাই শসার আবাদপ্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। মালচিং পদ্ধতিতে শসারভালো ফলন হওয়ায় এ বছর ২০ শতক জমিতে শসারচাষ করেছি।


 


ধুন্দল চাষি সুমন চোকদার বলেন, এ পদ্ধতিতেপ্রাথমিক খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তিতে খরচকম হয়। কারণ সার মাত্র একবার দিতে হয় এবংআগাছা হয় না বলে শ্রমীক খরচ কম লাগে। আমার২০ শতক জায়গায় ধুন্দল চাষে প্রায় সর্বমোট ৩০হাজার টাকা খরচ হবে। এ খরচ বাদ দিয়ে আমারপ্রায় ১ লক্ষ টাকার উপড় ধুন্দুল বিক্রি হবে বলে আশাকরছি।


 


শসা চাষি আব্দুর রব কাজী বলেন, গত বছর ২০শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করেআমার খরচ বাদে ১ লক্ষ ২০ হাজর টাকা লাভহয়েছে। যারা মালচিং ছাড়া চাষ করেছে তাদের গাছছোট থাকতেই ভাইরাসে নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর আমি৬০ শতক জমিতে এ মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষকরেছি।


 


কৃষিবিদ খাজি আলম মালচিং পেপার বিষয়ে বলেন, কারখানায় বিশেষভাবে তৈরি এক ধরনের খুবইপাতলা পূণঃ ব্যবহারযোগ্য বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক।এর উপড়ে সিলভারের আবরন এবং নিচে কালোআবরন দ্বারা আবৃত থাকে। যা সবজি চাষের জন্যব্যবহার হয়। পুরুত্ব ২০-৩০ মাইক্রোন। সাধারণতবিভিন্ন ধরণের মালচিং পাওয়া যায় যেমন দৈর্ঘ্য ৪০০মিটার ও প্রস্থ ১.২ মিটার বা  দৈর্ঘ্য ৬০০ মিটার এব্য০.৯ মিটার, দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০০ মিটার।এ পদ্ধতিতে আগাছা হয় না। পানির অপচয় কম হয়,অর্থাৎ সেচ কম লাগে।  লবণাক্ততা কমে যায়। মাটিরউপকারী অণুজীবের সংখ্যা বাড়ে এবং ক্ষতিকরঅনুজীবের সংখ্যা  কমে। মাটিবাহীত রোগ জীবানুকম হয়। নেমাটোড থাকে না। ফলন ১০-১৫  শতাংশবৃদ্ধি পায়। ফসলের পোকার উপদ্রব কম হয়। মাটিঝুরঝুরে থাকায়, মাটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধিপায়। শ্রমিক খরচ কম লাগে। মাটির তাপমাত্রানিয়ন্ত্রণ করে। অমৌসুমী সবজি চাষ করা যায়।রাসায়নিক সার কম লাগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকক্ষতিগ্রস্ত কম হয়। গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরিনিরাপদ সবজি উৎপাদন করা যায়।


তিনি আরো বলেন,  মালচিং পেপার পদ্ধতিতে সবজিচাষ  শরীয়তপুর জেলার গর্ব। এ পদ্ধতি এখন সমগ্রবাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। এ পদ্ধতির চাষে কৃষক খুবই লাভবান হচ্ছে।

জেলার খবর এর আরও খবর: