যশোরের ঝিকরগাছার বিষ্ণুপুর গ্রামে ফেলে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে হুলুস্থুল কান্ড
আব্দুল জব্বার, যশোর জেলা ব্যুরো প্রধানঃ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৯নং হাজিরবাগ ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে ফেলে রাখা একটি মাটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে হুলুস্থুল কান্ডের সৃষ্টি হয়েছে। কেও বলছে মাদক কারবারির মোটরসাইকেল আবার কেও বলছে স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের মোটরসাইকেল। এমনকি এলাকায় গুজব রটে যায় খুন করে পালিয়ে যাওয়ার সময় খুনি মোটরসাইকেল রেখে পালিয়েছে।
তবে দিনভর এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মধ্যে নানা ধরণের প্রশ্নের সৃষ্টি হলেও দিনশেষে কিছুই পাওয়া যায়নি সেই মোটরসাইকেলে। নাভারণ সার্কেল এসপি ও উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফেলে রাখা সেই মোটরসাইকেলে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি, এই ঘটনায় ১৩টি মোটরসাইকেল ও ১১জন ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান।
প্রত্যক্ষদর্শী বিষ্ণুপুর গ্রামের আব্দুল বারিক বলেন, রোববার সকাল ৭ টার দিকে তার বাড়ি থেকে সামান্য দূরে তিনজন ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। তারা কাউকে কিছু না বলে মোটরসাইকেলটি রেখে চলে যায়। এসময় তিনি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানায়।
তার কিছুক্ষণ পরেই ২০-২৫টি মোটরসাইকেলে প্রায় ৫০ জন লোক এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যেতে চাইলে, স্থানীয় গ্রামপুলিশ সাইদুল ইসলাম ও গ্রামবাসী বাঁধা দেয়। পরে তারা গ্রামপুলিশ ও ইব্রাহিম হোসেনের ছেলে বাবুকে ধাক্কাধাকি করতে থাকে। ঘটনা দেখে মহল্লার নারী-পুরুষ সবাই মিলে তাদেরকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন।
এসময় বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামরুজ্জামান, এ এসআই রিয়াজুল ইসলাম ও এএসআই স্বপন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থালে পৌছে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ১১ জনকে আটক করেন পুলিশ বাকী লোকজন পালিয়ে যায়, এবং তারা ঘটনাস্থলে ১৩ টি মোটরসাইকেল ফেলে যায়।
আটককৃতরা হলেন, শার্শা উপজেলার বালুন্ডা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আশিকুর রহমান(৩২), পুটখালী গ্রামের হাশেম আলী চেলে অসীম উদ্দীন (২৭), আব্দুল কাদেরের ছেলে মনিরুজ্জামান (৩০), ইমাদ মোড়লের ছেলে নাসির উদ্দীন (৩৯), আবুল খায়েরের ছেলে খোরশেদ আলী, দেলোয়াড় মোড়লের ছেলে নুর হোসেন (৪৫), মোজাম্মেল হক সরদারের ছেলে মহাব্বত আলী (৩৬), ইদ্রিস আলীর চেলে মিলন কবীর (২৮), বারোপোতা গ্রামের মোহর আলীর ছেলে আব্বাস আলী (৩০), তৈয়বুর রহমানের ছেলে আলাউদ্দীন (২৪) ও বাগআঁচড়া গ্রামের রেজাউল মোড়লের ছেলে সজীব হোসেন (২৫)।
দুপুরের পরে ঘটনাস্থলে আসেন সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান, ঝিকরগাছা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ডা. কাজী নাজিব হাসান, ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন ভক্ত, অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) রুপন কুমার সরকার।
স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মোটরসাইকেলের সিট কভার, ট্যাংকিসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো খুলে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু তাতে কোন কিছুই পাওয়া যায়নি।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সহকারী পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) জুয়েল ইমরান বলেন, দিনভর বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। মুল ঘটনা উদঘটনের জন্য আটককৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এবং যে গাড়িটি নিয়ে এ ঘটনা সৃষ্টি এ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন (যশোর-ল-১১-৬৮০৬) অনুযায়ী মালিক খুজে বের করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কেন সে এখানে এসেছে? গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের যদি কেউ কোন সমস্যা সৃষ্টি করতে চাই, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের জানাবেন, আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।
