ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসিয়ে কামালের রমরমা চাঁদাবাজি
সিলেট ব্যুরোঃঃ
পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর কে সামনে রেখে বিভাগীয় শহর সিলেটে চলছে নামেবেনামে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে অবৈধ চাঁদাবাজির মহোৎসব৷
সিলেটের জিন্দাবাজারের অগ্রগামি স্কুলের সামনে, সোনালী ব্যাংকের সামনে, ডায়বেটিকস হাসপাতালের গলির সামনে সহ ফুটপাতের ওপর অবৈধ দোকান বসিয়ে চলছে রমরমা চাঁদা বানিজ্য। সরেজমিনে জানা যায় কামাল নামের একজন (আগে পকেট চুর ছিলো) চাঁদাবাজ তার নিজস্ব বাহিনী দ্বারা সিলেট নগরীর অভিজাত শপিংমল সংবলিত জিন্দা বাজার এলাকার উভয় পাশের রাস্তায় অবৈধ ভাসমান দোকান বসিয়ে সদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজি।
সিলেট ডায়বেটিকস হাসপাতালের গলি, সিলেট অগ্রগামী বালিকা উচ্ছ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে, সোনালী ব্যাংকের সামনে, গাড়ি চলাচলের মেইনরোডের উপরে অবৈধ অস্থায়ী দোকান বসিয়ে প্রতিটি দোকান থেকে চাদাঁ তুলে অনায়সে তৈরি করে তুলেছে চাঁদাবাজির রাজ্য৷
এই চাঁদাবাজি নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
যে অবৈধ দোকান গুলো এখানে বসানো হয় প্রতিটি দোকানি যদি প্রতিদিন নির্ধারিত চাঁদা না দেয় তাহলে কোন দোকানই বসতে দেয় না চাঁদাবাজ কামাল।
ইতিমধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও তাকে থামাতে ব্যর্থ হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।
তার এই চাঁদাবাজির বিষয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেও কেনো চাঁদাবাজি থামছে না? এমন পশ্নের উত্তরে কয়েকটি দোকানির কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা বলেন, কিছু কিছু ভূইফোড় ও কথিত সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে মেনেজ করে ফেলে এই কামাল এর ফলে এসব সংবাদের সুফল পাওয়া যায় না।
তাছাড়া বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা যায় প্রশাসন সহ যারা এই ব্যস্ততম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার যানজট নিরসনের কাজে নিয়োজিত আছেন, তাদের কে নাকি মাসোহারা দিয়ে মেনেজ করে রাখে কামাল।
কামাল দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানের দোকান থেকে চাঁদা তোলে। প্রতিটি দোকানের বেচা কেনা চলে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।
সরজমিনে আরো দেখা গেছে, সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিলেট জিন্দাবাজার স্কুলের সামনের রাস্তা দখল করে ও ডায়বেটিকস গলির দোকান সহ অসংখ্য অবৈধ অস্থায়ী দোকান। এসব অবৈধ দোকান বসানোর ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যাবজট। যাদের চ্ছত্রছায়ায় এসব দোকান বসছে তারা জনগণের ক্ষতি করে এখান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের মুনাফা,
মজার বড় বিষয় হচ্ছে, একটি ব্যাংক এবং সরকারি হাইস্কুল ও কলেজের সামনে এসব অবৈধ দোকান বসানো দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রশাসন যেন এ বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করেন সে দাবি রাখছেন চলাচলকারী পথচারী ও চালকেরা।
এসব দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা তুলছে আলোচ্য কামাল ও তাদের বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদার একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করার কাজে দিতে হচ্ছে বলে জানালেন ভ্রাম্যমান দোকানদারের কাছ থেকে চাঁদা তোলার কাজে নিয়োজিত বাহিনী।
এদিকে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে। তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য কমেনি। বরং আরো বেড়ে গেছে গুন থেকে বহুগুণ । যানজট মুক্ত রাখতে সিটি কর্পোরেশন হকারদের অস্থায়ী পুর্ণবাসন দেন সিলেটের লালদিঘীর পাড়ে তারপর তাদের সরাতে ব্যর্থ সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কিসের জন্য সেই ব্যর্থতা?
নগরবাসী এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এসব চাঁদাবাজেরা রাস্তার উপর দোকান বসানোর ফলে লোকজন ও যানবাহন চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে, এতে যানজট এবং দূর্ঘটনাও বাড়ছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হকার মুক্ত করে যানচলাচল ও পথচারীদের র্নিবিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন এই কামনাই করছে সিলেটের আপামর জনসাধারণ।
