সিলেট সীমান্তে ভারতীয় চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেটের মুকুট হীন সম্রাট মিনহাজ

 প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০১:৪৪ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর


ক্রাইম রিপোর্টঃ  প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে  বিভাগীয় শহর সিলেটের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায়শই সিলেট শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাতবদল হয়ে অনায়াসে চলে যায় ভারতীয় চোরাই পণ্য। আর এগুলোর মধ্যে সম্প্রতি সময়ে বেশ আলোচিত হলো ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামী চোরাই মোবাইল। এগুলো মুলত নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট, আর এই সিন্ডিকেটের মুকুট হীন সম্রাট সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম এলাকার মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ। সম্প্রতি সময়ে সিলেটের শাহ পরাণ রহঃ থান পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভারতীয় চোরাই মোবাইল এর বড় একটি চালান আটক করলে বেরিয়ে আসে বিভিন্ন তথ্য। সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা যায় 


হামলা-মামলা চাঁদাবাজি, লুটপাট ও জবরদখল করে জিরো থেকে এখন হিরো সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ। গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা সম্পদের মালিক’ এখন তিনি। ক্ষমতা ও টাকার জোরে’ বিভিন্ন অভিযোগ থেকে মিনহাজুল‘বার বার বেঁচে যাচ্ছেন।


বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বড় অংকের টাকা  আত্মসাৎ করারও অভিযোগ রয়েছে মিনহাজুল ইসলামের   বিরুদ্ধে। 


সম্প্রতি ওয়ার্ক পারমিটে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়  মিনহাজুল। এরপর থেকে বিদেশে যেতে ইচ্ছুকরা ভিড় করতে থাকেন মিনহাজুলের কাছে।


কিন্তু গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা সংগ্রহ করে লাপাত্তা  মিনহাজুল। বন্ধ রয়েছে তার মুঠোফোনও।


সন্ত্রাসী মিনহাজুল তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান পাকাপোক্ত করে প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে চোরাচালানের ব্যবসা। 


সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারি  মিনহাজুল এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম’


গত বৃহস্পতিবার রাতে চোরাইপথে ভারত থেকে আনা ১’শ পিছ দামী মোবাইলসহ তার গাড়ি আটক করেছে শাহপরান থানা পুলিশ।


এসময় গাড়িতে থাকা লিয়াকত আলীর ছেলে জাফর সাদেক জয় আলী, লিয়াকতের ভাই ইসমাঈল আলীর ছেলে আক্তার হোসেন ও গাড়ীর ড্রাইভার লিমন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।লিয়াকতের ব্যবহৃত সিলভার কালারের প্রিমিও গাড়ী যার নং: ঢাকা মেট্রো গ-২১-০৬৫০ আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।


পুলিশ সুত্রে জানা যায়-লিয়াকত আলী চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে আনা ১’শ পিছ দামী মোবাইল পাঠিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মিনহাজুল ও শিপলুর কাছে।


পথিমধ্যে তার গাড়ীটি আটক করে শাহপরান থানা পুলিশ। তল্লাশী করে পাওয়া যায় ১’শ দামী মোবাইল ফোন। যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।


এ ঘটনায় আটককৃত তিনজনসহ ব্যবসায়ী শিপলুর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেছে। শাহপরান থানার মামলা নং-১০/ ১৫/০৪/২০২২ ইং। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি/২৫-ডি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত ৩ জনকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরন করেন। তবে মামলায় আসামীর তালিকায় নেই শীর্ষ চোরাকারবারি মিনহাজুল ইসলাম ও লিয়াকত আলীর নাম। এজাহারে তার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে-চোরাচালানে সহযোগীতা করেছেন লিয়াকত আলী কৌশলে বাদ পরেন মিনহাজুল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন   জানান, লিয়াকত আলীর ছেলে জয় স্বীকার করেছে, লিয়াকত আলী তার গাড়ীতে করে এই তিনজনকে দিয়ে মোবাইল গুলো পাঠিয়েছেন সিলেট শহরের চোরাই মোবাইল ব্যবসায়ী  মিনহাজুল ও  শিপলুর কাছে হস্তান্তরের জন্য।


পরে লিয়াকত আলী ও শিপলুকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।


উল্লেখ সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সিলাম হাজীপুর গ্রামের মৃত আনা মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুলের বিরুদ্ধে দির্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ফেনসিডিল সহ বিভিন্নরকম  মাদক ও মোবাইল চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে গোয়েন্দাসংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।


লিয়াকত আলীর ঘনিষ্ঠজনদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, তার ছেলে ভাতিজা সহ চোরাচালনকৃত মাল আটক ও ছেলে ভাতিজা গ্রেফতারের পর গভীর রাত পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের এক বড় নেতার বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন লিয়াকত আলী।


সেখান থেকে চোরাচালানকৃত পন্য সহ ছেলে ও ভাতিজাকে ছাড়িয়ে নিতে নানা তদবির করে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

জেলার খবর এর আরও খবর: