শরীয়তপুরে সাবেক প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গৃহবধূর
জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুরঃ বিয়ের প্রলোভনে ফোনে ডেকে নিয়ে সিমা আক্তার (১৯) (ছদ্মনাম) নামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাবেক প্রেমিক সোহেল কবিরাজ (২৩) নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিগত এক বৎসর পূর্বে জাজিরা উপজেলার মনির উদ্দিন সরদারকান্দি এলাকায় বিয়ে হয় সিমা আক্তারের (ছদ্মনাম)। বিয়ের দুই বৎসর পূর্বে থেকে শরীয়তপুর জাজিরা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কবিরাজ কান্দি এলাকার হারুন কবিরাজের ছেলে, সোহেল কবিরাজের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটির বিয়ে হওয়ার পর শান্তিতে ঘর সংসার করতে থাকা অবস্থায়, সাবেক প্রেমিক সোহেল বিভিন্ন সময় গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। বিভিন্ন কৌশলে গৃহবধূর সাথে প্রেমিক সোহেল কবিরাজ পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফোনে ডেকে আনে গৃহবধূর। এরপর প্রেমিক তার সহযোগী বন্ধু সালাউদ্দিন মাদবর সহ প্রেমিকের নানাবাড়ি অলি উল্লাহ কোতোয়ালের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নির্জন একটি রুমে একা পেয়ে প্রেমিক গৃহবধূকে দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে, এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। এরপর প্রেমিক সোহেল ফোনে তার আরো ১০ থেকে ১২ জন বন্ধুকে ডেকে আনে এবং গৃহবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে থাকে। জেলার নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী নামক স্থানে মোটরসাইকেলে গৃহবধূকে দেখে ফেলে তার আত্মীয়-স্বজন। এবং আটক করে আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ছেলের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের জিম্মায় মেয়েটিকে নিয়ে আসে।
স্থানীয় প্রভাবশালী মহল গৃহবধূর বাবাকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার আশ্বাসে থানা পুলিশে অভিযোগ দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলে। বিষয়টি মীমাংসার নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা করছে বিভিন্ন টালবাহানা।
ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বাবা জানান এলাকার লোক মীমাংসা করে দিবে বলে নাটক করতেছে। আমি থানায় অভিযোগ দিতে চাইলে স্থানীয় গণ্যমান্যরা আমাকে অভিযোগ দিতে নিষেধ করে। আমি গরিব মানুষ কি করবো বুঝতে পারতেছি না। তবে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করব। আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় এর ন্যায় বিচার চাইতে আইনের আশ্রয়ে যাব।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটি বলেন, বিয়ের পর থেকে সোহেল আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। একপর্যায়ে তার সাথে পুনরায় প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সোহেল আমাকে ডেকে এনে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল। আমি এর ন্যায় বিচার চাই।
খোঁজ নিতে সরেজমিনে অভিযুক্ত সোহেলের বাসায় গেলে বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। দেখা যায় বাসা টি তালা মারা। পাড়া-প্রতিবেশীরা জানান ঘটনার পর থেকে সোহেল পলাতক রয়েছে। তার নাম্বারে ফোন দেয়া হলে নাম্বারটি রং নাম্বার বলে কেটে দেন।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু মণ্ডল জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি কোন অভিযোগ পাইনি। কোন লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
